সরকারের শেষ সময়ে চাপ দিয়ে কিছু আদায় করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

সরকারের শেষ বছর মনে করে চাপ দিয়ে কোনো কিছু আদায় করা যাবে নাÑ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষিত জাতি ছাড়া দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। ফলে সরকার শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নীতিমালার ভিত্তিতেই পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ করা হবে।প্রযুক্তি ও সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার বিষয় ও পাঠক্রম ঠিক করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি আরো বলেন, শিক্ষার প্রসারে সরকার বহুমখী ব্যবস্থা নিয়েছে। আর দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার ট্রাস্ট চালু করেছে, বৃত্তি প্রদানও করা হচ্ছে।আর অবৈধভাবে ক্ষমতাদখলকারীরা দেশকে কিছু দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘শিক্ষা সমাবেশে’ প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এটুকু আমি বলব, চাপ দিয়ে কিন্তু কেউ কিছু আদায় করতে পারবে না। কেউ যদি মনে করেন, সরকারের এটা শেষ বছর.. অমনি দাবি করলেই আমরা সব শুনে ফেলব.. আমি কিন্তু ক্ষমতার পরোয়া করি না। ক্ষমতায় থাকি, না থাকি; আমার কিন্তু আসে যায় না। সম্প্রতি এমপিওভুক্তির দাবিতে ছয়দিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন চালিয়ে আসার পর বেসরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।সবশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে সরকার। এরপর থেকে এমপিওভুক্তি বন্ধ আছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,কিছু দিলেই, আরো দাও, আরো দাও করলে বললাম আমরা দিতে অপরাগ হব।সরকারের তার পরিকল্পনার বাইরে বেরিয়ে কিছু করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন,“আমাদের একটা বাজেট নিয়ে, পরিকল্পিতভাবে চলতে হয়। সেটা মাথায় রাখতে হবে; কতটুকু আমরা করতে পারি। কোথায় কোনটা সরকারি করতে হবে, কোনটা করতে হবে না, কোন নীতিমালার ভিত্তিতে করতে হবে; সেটা তো একটা নীতিমালার ভিত্তিতে করতে হবে। যখন তখন যে কেউ দাবি করলে সেটা তো পূরণ করা সম্ভব নয়। এটা তো সকলকে অনুধাবন করতে হবে, বুঝতে হবে।
শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সেবা বাড়িয়ে যাচ্ছি। আমরা কখনো কাউকে বি ত করছি না।শিক্ষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা’ দিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তারপরও আমরা সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষাকে আমরা সব সময় গুরুত্ব দেই।এটুকু ভরসা রাখতে হবে যে, আওয়ামী লীগ যতক্ষণ ক্ষমতায় আছে, কাউকে বি ত করে নাই, বি ত করবে না।
শিক্ষকদের মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,কী ধরনের মানুষ আপনারা তৈরি করে দিয়ে গেলেন ? আপনাদের কাছে যারা শিক্ষা নিচ্ছে; তারা দেশকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে; সেটাই হচ্ছে বড় কথা। আপনাদের ওপর এই জাতির ভবিষ্যত নির্ভর করে।শিক্ষার মান নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের কথার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানটা কী ভাবে নির্ধারণ করবেন ? শিক্ষার মান উন্নয়ন এটা একটা ধারাবাহিক বিষয়। আজকে যেটা মনে হবে আধুনিক, কালকে সেটা পুরনো হয়ে যাবে।শিক্ষা যেহেতু একটা ধারাবাহিক বিষয়, কাজেই সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার বিষয় বাছাই করতে হবে, নির্দিষ্ট করতে হবে এবং শিক্ষা প্রদান করতে হবে। আজকে যেটা উন্নত মনে হচ্ছে, আধুনিক ও সময়োচিত মনে হচ্ছে, সেটা আগামীতে কয়েক বছরের মধ্যে পুরাতন হয়ে গেল। আবার নতুন ভাবে, নতুন কিছু আবিস্কার হল.. তার সঙ্গেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণের ওপরো গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ কার্যক্রম এখন তথ্য প্রযুক্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থী ভর্তি, নম্বরপত্র গ্রহণ, শিক্ষকদের সম্মানীর চেক প্রদান অন-লাইনে সম্পন্ন হয়। ই-ফাইলিং, ই-টেন্ডারিং, ই-লাইব্রেরি চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,কোনো সেশন জট নেই। ২০২১ সাল পর্যন্ত একাডেমিক ক্যালেন্ডার দেওয়া হয়েছে।এবার কলেজ র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।এবার জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়েছে রাজশাহী কলেজ, দ্বিতীয় পাবনার সরকারি এডোয়ার্ড কলেজ, তৃতীয় রংপুরের কারমাইকেল কলেজ, চতুর্থ বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, প ম বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ, সেরা মহিলা কলেজ সিদ্ধেশরী গার্লস কলেজ এবং সেরা বেসরকারি কলেজ ঢাকা কমার্স কলেজ।এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ গবেষণা ইন্সটিটিউট, স্বাধীনতা মুরাল, কলেজ শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের ডরমেটরি ভবন, আইসিটি ভবন, সিনেট ভবন, কর্মকর্তা ভবন, কর্মচারি ভবন, বরিশাল আ লিক কেন্দ্র, রংপুর আ লিক কেন্দ্র, চট্টগ্রাম আ লিক কেন্দ্র এবং কলেজ শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করে উদ্বোধন ঘোষণা করেন।অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্ হারুন-অর-রশিদ বক্তব্য রাখেন।