সিলেটে জিয়ারত করলেন খালেদা জিয়া

87

৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেটে পৌঁছে বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারত করলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সোমবার (০৫ ফেব্র“য়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট থেকে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারতে যান তিনি। সেখান থেকে হযরত শাহ পরাণ (র.) এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি । দলীয় সূত্র জানায়,মাজার জিয়ারতের পর সার্কিট হাউজে ফিরেবেন খালেদা জিয়া। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর রাতেই ঢাকার পথে রওনা হবেন তিনি।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউজে গিয়ে পৌঁছায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর।এর আগে সকাল সোয়া ৯টায় রাজধানী ঢাকার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে পূণ্যভূমি সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয় বিএনপি প্রধানের গাড়িবহর।এই সফরে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটে তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা সড়কের দু’পাশে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। খালেদাও গাড়ি থেকে হাত নেড়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছার উত্তর দেন।

সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় তিনি সিলেট সার্কিট হাউজে পৌঁছালে জেলা বিএনপির নেতারা তাকে স্বাগত জানান।পাঁচ বছর পর সিলেটে তার এই সফরে জনসভার মত কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি রাখা হয়নি।সকালে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরুর আগে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার এই সফর শুধুই জিয়ারতের উদ্দেশ্যে, নির্বাচনী প্রচারের জন্য নয়।এক বছর আগে নির্বাচনী প্রচারের কোনো সুযোগ নেই। যেখানে এখন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি করা হয়নি, সেখানে নির্বাচনী প্রচার কীভাবে হবে?সকাল সোয়া ৯টায় গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে খালেদার গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। খালেদা বসেন গাড়ির সামনে, চালকের পাশের আসনে, যা সচরাচর দেখা যায় না।গাড়িবহর সিলেটে যাওয়ার পথে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন স্থানে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ধরপাকড়ও করা হয় বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ।খালেদার গাড়িবহর নারায়ণগঞ্জ পার হওয়ার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে আটক করা হয় মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান ও সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদসহ দশ জনকে।নরসিংদীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়াকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।এছাড়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, নরসিংদীর ভেলানগর ও কামারটেকের কাছে রাস্তায় থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।

এই সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, বরকতউল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।গত ৩১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১ ফেব্র“য়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সিলেটে গিয়ে মাজার জিয়ারত করে জনসভায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে প্রাকনির্বাচনী প্রচার শুরু করেন।

আমীর খসরু অভিযোগ করেন, সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি না করে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের শরিকরা ‘এককভাবে’ নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে।খালেদা জিয়া সর্বশেষ সিলেটে গিয়েছিলেন দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর। সে সময় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন, যদিও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোট বিএনপি বর্জন করে।আগামী ৮ ফেব্র“য়ারি জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে খালেদা জিয়ার যাবজ্জীবন সাজা হতে পারে। সেক্ষেত্রে তার আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।এই পস্থিতিতে শনিবার ঢাকায় জাতীয় নির্বাহী কমিটির চার শতাধিক সদস্যের সঙ্গে সভা করেন খালেদা জিয়া। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের অভয় দেওয়ার পাশাপাশি ‘যে কোনো বিপদ মোকাবিলায়’ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।অন্যদিকে বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের নেতারা বলেন, নির্বাচনের আগে ওই রায় খালেদা জিয়ার বিপক্ষে গেলে বিএনপিকে কর্মসূচি দিতেই হবে। তবে সেই আন্দোলনে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও সক্রিয় করতে হবে। নির্বাহী কমিটির সঙ্গে সভার পর রোববার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।বৈঠকের আলোচনা নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা বলেছেন, ৮ ফেব্র“য়ারি রায় পরবর্তী করণীয় অর্থাৎ আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচি কী হতে পারে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।