রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সংঘর্ষ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদন্ডের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বিএনপি-পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক জন আহত হয়েছেন।
রাজধানীর মগবাজারে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে থাকা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মগবাজার মোড়ে তাদের লক্ষ্য করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। এসময় সেখানে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোনও ব্যবস্থা নেননি। দুর্নীতির মামলার রায় শুনতে গুলশানের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।খালেদা জিয়ার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩০টির বেশি গাড়ি রয়েছে। তবে খালেদার নিরাপত্তায় সিএসএফ (চেয়ারপারসন’স সিকিউরিটি ফোর্স) এর কেউ নেই। পোশাকধারী সদস্যরা ছাড়াও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গাড়িবহর সাতরাস্তা পর্যন্ত আসার পর ছাত্রদল, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনেরনেতাকর্মীরা মিছিল করে এসে বহরের সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে পুলিশ এসময় তাদের কোনও ধরনের বাধা দেয়নি।

গাড়িবহর মগবাজার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছালে বিএনপির কর্মীদের মধ্য থেকে সহিংসতা তৈরির চেষ্টা করতে দেখা যায়। মগবাজারে ছাত্রদলের কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।এদিকে, পুরান ঢাকার চানখারপুলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সঙ্গে আসা নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থল থেকে নয়জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।আটকৃতরা হলেন- মীর মাহমুদুল হাসান, ফয়সাল আহমেদ, কামরুল দেওয়ান, আল আমিন, ওবায়দুল্লাহ নাঈম, রায়হান এবং যুব মহিলা দলের কর্মী পপি আক্তার। এছাড়া গোয়েন্দা পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। তাদের পরিচয় জানা যায়নি।বৃহস্পতিবার দুপুরে চানখারপুলে পৌঁছান খালেদা জিয়া। এ সময় পুলিশ শুধু তার গাড়িকে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত এলাকায় যেতে দেয়।অন্যদিকে সাত রাস্তা থেকে গাড়িবহরের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকা নেতাকর্মীদের চানখারপুলে আটকে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এনিয়ে উভয় সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় পুলিশ ২৪ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে নয়জনকে আটক করে।এর আগে দুপুর ১টার দিকে কাকরাইলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ফেনী: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের পর বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা মিছিলের প্রস্তুতি নেয়ার সময় পৌর কাউন্সিলরসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার জিরো পয়েন্টে তাদের আটক করা হয়।পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদন্ড দেয়া হলে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এসময় উপজেলার জিরো পয়েন্টে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে পুলিশ লাঠিচার্জ করে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ও পৌর কৃষক দলের আহবায়ক মো. ইয়াছিন, যুবদল নেতা মাকসুদুল করিম রাসেল, গোলাম আজমকে আটক করে। এসময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে এবং ৩টি অবিষ্পোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।এদিকে সোনাগাজীতে সকাল থেকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সকাল থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনার পাশে পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছে। সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন তিনজন বিএনপি নেতাকর্মীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রংপুর : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদন্ডের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রংপুরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্র“য়ারি) নগরীর প্রাণকেন্দ্র জাহাজ কোম্পানি এলাকায় ঘটনা ঘটে। এসময় বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালায় নেতাকর্মীরা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।জানা যায়, দু’পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের একজন, বিএনপির ১০ জন এবং বাকিরা পথচারী। খালেদা জিয়ার কারাদ-ের রায় ঘোষণার পর জাহাজ কোম্পানি এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর তা নগরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রায়ট-কার ব্যবহার করে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জ করে পুলিশ। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের সময় নগরীর সব শপিং মল, মার্কেট, দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তাঘাটও যানবাহনশূন্য হয়ে পড়ে।বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, এর আগে বেলা ১১টার পর থেকে নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ের জেলা ও মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা আসতে থাকে। এসময় পুলিশ তল্লাশি করে অনেককে প্রবেশ করতে দিলেও অনেককে যেতে দেয়নি। সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তারা পুরো এলাকা ঘিরে রাখে। দুপুরে মামলার রায়ে খালেদা জিয়া সহ অন্যান্য আসামির সাজা ঘোষণার পরেই দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের অনেককেই বিকল্প পথে কার্যালয় ত্যাগ করে চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় মহানগর বিএনপি সভাপতি মোজাফফর হোসেন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

জানা যায়, রায় ঘোষণার পর জাহাজ কোম্পানি এলাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কয়েকদফা ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশ রায়ট-কার নিয়ে বিএনপি কর্মীদের ধাওয়া করে। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এ সময় জাহাজ কোম্পানি শপিং মলে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ সংঘর্ষ নগরীর গুপ্ত পাড়া, কামাল কাছনা, সিটি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দু’টি মোটরসাইকেল, একটি মাইক্রেবাসসহ বেশ কয়েকটি ইজিবাইক ভাঙচুর করা হয়।এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু বলেন, আমাদের পূর্ব-ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা উপলক্ষে সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল। সেই অনুসারে বিভিন্ন স্থান থেকে দলের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে আসার সময় প্রবেশ পথেই অনেক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। অনেকে চলে এলেও তাদের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি আমাদেরও বারবার অফিস ত্যাগ করে চলে যাবার জন্য শাসিয়েছে পুলিশ। তারপরও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অফিসে ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, রায় ঘোষণার পরও আমরা কোনও মিছিল করিনি। আমরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষণার অপেক্ষায় আছি। এত কিছুর পরও আওয়ামী লীগ ও পুলিশ মিলে নগরীর বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসময় আমাদের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল বলেন, ‘রায় ঘোষণার পর শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছিলাম আমরা। কিন্তু এসময় আমাদের মিছিলে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।’রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা কোনও উস্কানি ছাড়াই অরাজকতা করার চেষ্টা করছিল। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়াবাজার মোড় এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের ছোড়া গুলিতে বিএনপির চার কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে শহরের আখড়াবাজার এলাকা থেকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিবাদে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় আখড়া বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে।এদিকে একই সময় শহরের পুরান থানা ও নগুয়া এলাকায় বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুরান থানা এলাকায় বিএনপিকর্মীরা একটি পিকআপভ্যান ও একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্ববায়ক খসরুজ্জামান শরীফ দাবি করেছেন, আখড়া বাজার এলাকায় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে লালন, নাঈম, অনিক ও মামুন নামে চার যুবদল কর্মী আহত হয়েছে।
সিলেট : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে সিলেট নগরী। বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে নিজের গুলিতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার রায়ের পর নগরীর কোর্ট পয়েন্টে বিএনপিও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নেয়। নাশকতা এড়াতে অ্যাকশনে নামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে দুপুর পর্যন্ত সিলেট জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ৬৬ নেতাকর্মীকে।জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অতিক্রম করে বিকাল ৩টার দিকে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে বিএনপিও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নেয়। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে ও লাঠিপেটা করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে। এসময় কোর্ট পয়েন্ট রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় নিজের বন্দুকের গুলিতে শামীম আহমদ নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন।সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব যুগান্তরকে জানান, নগরী থেকে ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মহানগরীর বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) এএসপি মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার যুগান্তরকে বলেন, জেলায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সর্তক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার পর সাতক্ষীরা শহরের অদূরে বাঁকাল এলাকায় সড়কের পশে থাকা একটি এসি বাসে আগুন দিয়েছে দূর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাঁকাল প্রেট্রোল পাম্পের ধারে এ ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাতক্ষীরা শহরের অদুরে বাঁকাল সড়কের পাশে রাখা একে ট্রাভেলসের একটি এসি বাসে সন্ধ্যায় দূর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা আরো জানান, একে ট্রাভেলসের ওই বাসটিসহ আরও কয়েকটি বাস প্রায় সময়ই বাঁকাল সড়কের পাশে রাখা থাকে। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেরিনা আক্তার জানান, সন্ধ্যার সময় ত্রাস সৃষ্টির জন্য বাঁকাল এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জড়িতদের সনাক্তকরণে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম: বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। অবরুদ্ধ নাসিমন ভবনের সামনে পুলিশকে লক্ষ্য করে নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পুলিশ নাসিমন ভবনের ভেতরে ঢুকে নগর বিএনপির সভাপতি ডা.শাহাদাত হোসেনসহ কমপক্ষে ১৫ জনকে আটক করেছে। এছাড়া নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এদিকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ছোঁড়া ঢিলে ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিতসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.জসিম উদ্দিন বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া এতিমখানা দুর্নীতির মামলায় বৃহস্পতিবার ঢাকার জজ আদালতে রায় ঘোষণা হবে। রায়ের পর নাশকতার আশঙ্কায় সকাল থেকেই নাসিমন ভবন অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ।
তবে নগর বিএনপির সভাপতি ডা.শাহাদাৎ হোসেন ও সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ানসহ সিনিয়র কয়েকজন নেতা তাদের অনুসারী কর্মীদের নিয়ে নাসিমন ভবনের ভেতরে অবস্থান নেন। সেখানে অবস্থান করে দেখা গেছে, দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ডা.শাহাদাতসহ অন্য নেতারা নাসিমন ভবনের ফটকের সামনে এসে অবস্থান নেন। এসময় মহিলা দলের এক নেত্রী এক পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দেয়। তখন পুলিশ মহিলা দলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ডা.শাহাদাত হোসেনকে আটকের চেষ্টা করে। এসময় নেতা-কর্মীরা পালিয়ে গেলে ডা.শাহাদাতকে নাসিমন ভবনের ভেতরে ঢুকিয়ে দেন পুলিশ। সেখানেই তারা অবস্থান করছিল। নাসিমন ভবনের সামনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নুর আহম্মদ সড়কের উত্তর পশ্চিম পাশ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কয়েকজন বিএনপি কর্মী। তখন পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে আটক।দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে কার্যালয়ের ভেতরে গিয়ে শাহাদাতসহ কমপক্ষে ১০ জনকে আটক করে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এসময় পালাতে গিয়ে বেশ কয়েজন নেতা-কর্মী আহত হন। এর আগে মহিলা দলের নেত্রী আঁখি সুলতানাসহ আরও কমপক্ষে ৫ জনকে আটক করা হয়।