কারাগারে খালেদাকে দেখে গেলেন ভাই-বোন

120

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে গিয়ে দেখা করেছেন তাঁর স্বজনেরা। খালেদা জিয়ার পরিবারের চার সদস্য পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে গিয়ে দেখা করে এসেছেন।শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তাঁর সহধর্মিণী কানিজ ফাতেমা ও ছেলে অভিক এস্কান্দার এবং খালেদা জিয়ার বোন সেলিনা ইসলাম কারাগারে প্রবেশ করেন। বেলা পাঁচটার দিকে তাঁরা বের হয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করেন। তবে এ সময় কারাগারের সামনে অপেক্ষারত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি।
এর আগে বেলা তিনটার দিকে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি চান। অনুমতি পাওয়ার পর তাঁরা কারাগারে প্রবেশ করেন। তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ভেতরে থাকলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও তাদের ছেলে অভিক এস্কান্দার শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে কারা ফটকে গিয়ে দেখা করার অনুমতি চান।কারা অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাদের চারজনকে ভেতরে গিয়ে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়।এরপর বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে কারাগারের ফটক দিয়ে তাদের গাড়ি বেরিয়ে যেতে দেখেন সাংবাদিকরা। সেখানে দায়িত্বরত সূত্রাপুর থানার পরির্শক (অপারেশন) শেখ আমিনুল বাশার বলেন, উনারা দেখা করে চকবাজার হয়ে চলে গেছেন।দুপুরের পর খালেদা জিয়ার স্বজনরা কারাগারের সামনে পৌঁছালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি সাংবাদিকরা।তাদের সঙ্গে থাকা এক বিএনপি নেতা তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বেরিয়ে আসার পর হয়ত শামীম এস্কান্দার কথা বলতে পারেন।কিন্তু তারা দেখা করে চলে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কারাফটক থেকে একশ গজ দূরে ব্যারিকেডেই আটকে থাকতে হয়।
ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত বৃহস্পতিবার জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেয়। তার ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য ৫ আসামিকে দেওয়া হয় ১০ বছরের সাজা।রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।নাজিমউদ্দিন রোড থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার দুই বছর আগে কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়ায় পুরনো কারাগারে এখন খালেদা জিয়াই একমাত্র বন্দি।কারা কর্তৃপক্ষ এখন ভবনটিকে বলছে, বিশেষ’ কারাগার। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার আগে থেকেই কারাগার ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। কারাগারের প্রধান ফটক থেকে দুই পাশে একশ গজ দূরত্বে নাজিমুদ্দিন রোডে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বিএনপির কয়েক বিএনপির দুই নারী কর্মী এক ঝুড়ি ফল নিয়ে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চান। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় তাদের ফিরে যেতে হয়।
এদিকে,জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা পেয়ে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য তার পছন্দের কিছু ফলমূল নিয়ে গিয়েছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার স্ত্রী। কিন্তু খালেদা জিয়ার পছন্দের সেসব ফল পৌঁছেনি তার কাছে। জেলগেট থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে ফল। জেলগেটের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সূত্রাপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শেখ আমিনুল বাশার এ তথ্য জানিয়েছেন।শুক্রবার (৮ ফেব্র“য়ারি) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার জন্য ফল নিয়ে আসেন দু’জন। তারা হলেনÑ অর্পণ বাংলাদেশ’-এর সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথীকা বিনতে হোসাইন এবং স্বেচ্ছসেবক দল ঢাকা মহনগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানির স্ত্রী রওশন আরা। কিন্তু জেলগেটের আগে নাজিমউদ্দিন রোডের শাহী মসজিদের সামনের ব্যারিকেডেই তাদের আটকে দেওয়া হয়।এসময় বিথীকা ও রওশন আরা ২০ মিনিটের মতো অপেক্ষা করেন জেলগেটের সামনে। কিন্তু তাদের জেলগেট পর্যন্ত যেতে দেওয়া হয়নি এবং তাদের কাছ থেকে ফলও নেওয়া হয়নি। পরে তারা সেখান থেকেই ফিরে যান।বিথীকা বিনতে হোসাইন বলেন, আমরা মায়ের (খালেদা) জন্য ফল এনেছিলাম। তিনি এসব ফল পছন্দ করেন। কিন্তু পুলিশ আমাদের কারা ফটকের দিকে যেতে দেয়নি।জানতে চাইলে শাহী মসজিদের সামনে দায়িত্বরত সূত্রাপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শেখ আমিনুল বাশার বলেন, কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া কিংবা ভেতরে কিছু পাঠানোর এখতিয়ার আমাদের নেই। কে জেলগেটে যাওয়ার অনুমতি পাবেন বা কার মাধ্যমে কিছু পাঠানো হবেÑ এগুলো কারা কর্তৃপক্ষের বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও নির্দেশনা নেই। তাই আমরা তাদের জেলগেটে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারিনি। ব্যারিকেড থেকেই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলগেটে ফল নিয়ে গিয়েছিলেন তারাএই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ভেতরে কাউকে বা কোনোকিছু পাঠানোর কোনও এখতিয়ার আমাদের নেই। আমরা কেবল নিরাপত্তার দায়িত্বে আছি। এর বাইরে আমরা কিছু করতে পারব না।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে বকশীবাজারের অস্থায়ী বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদ- দেন বিচারক। মামলায় খালেদা জিয়ার সন্তান ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পরই খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে।
অন্যদিকে,বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে নেওয়ার পর তাঁকে পেঁপের শরবত ও কিছু ফল পরিবেশন করা হয়। খালেদা জিয়াকে কারাগারের যে কক্ষে রাখা হয়েছে, সেখানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা রয়েছে ও টিভিতে ডিস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার আধা ঘণ্টা পর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। রায়ে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন আদালত।কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারাগারে খালেদা জিয়া সঙ্গে রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতেমা। কারাগারে নেওয়ার পর কারা চিকিৎসক আহসান হাবিব খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। এ সময় খালেদা জিয়ার রক্তচাপ স্বাভাবিক ছিল। এরপর তাঁকে অল্প চিনিযুক্ত ফলের জুস পরিবেশন করা হয়। এসব ফলের মধ্যে ছিল পেঁপে, আপেল, কমলা ও আঙুর।

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে যে কক্ষে আছেন, সেটি আগে জেল সুপারের অফিস কক্ষ ছিল।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারাগারের এক কর্মকর্তা জানান, কক্ষটি একদম ঝকঝকে করা হয়েছে। কক্ষটিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ, ডিসের লাইনের ব্যবস্থা ও আরামদায়ক বিছানা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কক্ষের পাশে রান্নাঘর এবং স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিষ্কার শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। ওই ব্যক্তি আরও জানান, বিএনপি প্রধান কয়েক দিনের জন্য এখানে থাকবেন। এরপর তিনি পুরোনো কারাগারে ডে কেয়ার সেন্টারের কাছে মহিলা ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত হতে পারেন। অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বাড়ি ভাড়া করে সাব-জেল ঘোষণা করে তাঁকে রাখা হতে পারে।