খালেদা জিয়ার রায়ের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হল বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হল না, বরং বিএনপির অভ্যন্তরীণ সঙ্কট ঘনীভূত হবে। সেটার লক্ষণ আমরা টের পাচ্ছি।

তিনি শুক্রবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোগড়া বাইপাস মোড়ে বিআরটি ও গাজীপুর-এলেঙ্গা সড়কে চারলেন প্রকল্পের কাজের পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আজকে বেগম জিয়ার অনুপন্থিতিতে কাকে দায়িত্ব দেয়া হল? যার আগে ৭ বছর দ- হয়েছে। তিনি দ-িত ব্যাক্তি। অপরাধী হিসেবে দ-িত মানিং লন্ডরিংয়ের জন্য। আর এই মামলায় জরিমানাসহ ১০ বছরের সশ্রম কারদ- হয়েছে। বিএনপি ৭ ধারাটা কেন তুলে দিয়েছে গঠনতন্ত্র থেকে? এখনতো পরিস্কার। দুর্নীতিবাজ তাদের নেতা হতে কোন বাধা নেই। বেগম জিয়া তার অনুপস্থিতিতে যাকে দায়িত্ব দিলেন তিনি দুর্নীতির অভিযোগে দ-িত।

তিনি আরো বলেন, এই রায় ঘোষণার আগে তড়িঘড়ি রাতের অন্ধকারে তারা তাদের বিএনপির গঠণতন্ত্রের ৭ ধারা বিসর্জন দিলো, নির্বাসনে পাঠালো। এখন ৭ ধারা চলে যাওয়াতে দুর্নীতিপরায়ণের বিএনপির নেতা হতে আর কোন অসুবিধা নেই। যে কোন দুর্নীতিবাজ বিএনপির নেতা হতে পারে। এবং তারা ৭ ধারা তুলে দিয়ে সে স্বীকৃতি দিয়েছে। তার বড় প্রমাণ সর্বশেষ তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন করা।

বেগম জিয়ার মামলা ও রায়ের ব্যাপারে এ সরকারের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই মন্তব্য করে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী বলেন, এ সরকারের আমলে মামলটি হয়নি। মামলাটি হয়েছে তত্ববধায়ক সরকারের আমলে। যখন মাইনাস টু ফর্মুলা কার্যকর করার নীল নকশা হয়েছিল। সে সময় আমাদের নেত্রীও ছিলেন মাইনাস টু পরিকল্পনার ব্লুপ্রিন্টের অংশ। ওই সময় দুদক মামলাটি করেছিল। তখন আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে এবং বেগম জিয়ার বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছিল। আমাদের নেত্রী মামলার তদন্ত করে কোন স্বাক্ষ্য প্রমাণ, তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় আদালতই সেগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই মামলা সরকার করেনি, সরকারের কোন হস্তক্ষেপ বা কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। সরকার এখানে কিছুই করেনি। ১০বছর ধরে একটা মামলা চলে এসেছে। তারপরও বিএনপির নেতারা বলছে তড়িঘড়ি করে এ মামলাটির রায় দেয়া হয়েছে। বেগম জিয়া বারবার কোর্টে হাজিরা থাকার পর ও হাজিরা দেননি। বেগম জিয়া যদি নিয়মিত হাজিরা দিতেন। এ মামলার অনেক আগেই রায় হয়ে যেত। এখন তিনি নিজেই দেরী করে নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। এটার জন্যতো বিএনপি দায়ী, এটার জন্য বেগম জিয়া ও তার বিজ্ঞ আইনজীবীরা দায়ী। অথচ তারা এখন বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

এসময় মন্ত্রী সঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ সড়ক ও জনপথের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।