খালেদা জিয়াকে নিয়েই আগামী নির্বাচন হবে: ফখরুল

খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আগামী জাতীয় নির্বাচন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়েই হবে। তাঁকে ছাড়া এ দেশের কোনো নির্বাচন হবে না। আমরা চাই, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আসুন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করি।

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে ফখরুল এসব কথা বলেন। একই দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সারা দেশে দলটি মানববন্ধন করছে।সকাল ১০টার পর থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মী জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে সামনের রাস্তার একটি অংশ দিয়ে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তোপখানার মোড় থেকে হাইকোর্টের কদম ফোয়ারা পর্যন্ত পুরো এলাকায় বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক মানববন্ধনে অংশ নেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। প্রচন্ড ভিড়ের কারণে একপর্যায়ে মাইকের তার ছিঁড়ে যায়। এরপর নেতারা মাইক ছাড়াই বক্তব্য দেন।মানববন্ধনে দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন উল্লেখ করে দলের মহাসচিব বলেন, আজ জনগণের উপস্থিতি প্রমাণ করে, খালেদা জিয়া দেশে জনপ্রিয় নেত্রী। তাঁকে অন্যায়ভাবে মামলা দিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি কোনো দিন কারাগারে থাকবেন না। তিনি অবশ্যই নিঃসন্দেহে অতি দ্রুত কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবেন।ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া রায়ের আগে নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধরতে ও শান্ত থাকতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বলেছেন। এ কর্মসূচি তাঁকে মুক্ত করার জন্য, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আজ সারা দেশের একটিই আওয়াজ, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তাঁকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রেখে জনগণের গণতন্ত্রের যে আন্দোলন, তা দমিয়ে রাখা যাবে না।

খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দলের মহাসচিব বলেন, আজ এই মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে খালেদা জিয়া এ দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, দেশনেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।দুপুরে এক ঘণ্টার মানববন্ধনের সমাপনী বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ঘোষণা দেন।তিনি বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই কারাবাসের বিরুদ্ধে আপনাদের যে ক্ষোভ, আপনাদের যে হতাশা, আপনাদের বেগম জিয়ার প্রতি যে ভালোবাসা সেটা আপনারা প্রকাশ করেছেন। আজকে এই মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, বেগম জিয়া এদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়েছে।আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, দেশনেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।মির্জা ফখরুল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশনেত্রী কারাগারে যাওয়ার আগে বলে গেছেন, আপনাদের ধৈর্য ধরতে, শান্ত হতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে। আমাদের এই কর্মসূচি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করবার জন্যে, আমাদের এই কর্মসূচি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্যে।এই মুহূর্তে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তার মুক্তি আমরা চাই।

খালেদা জিয়াকে নিয়েই বিএনপি আগামী নির্বাচনে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশনেত্রী ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।আমরা সহায়ক সরকার চাই, আমরা একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করে দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন করতে চাই। তাই আসুন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে দেশনেত্রীকে কারামুক্ত করি।একইসঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান বিএনপি মহাসচিব।স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশনেত্রীকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে- এটা দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে, আমাদের সব নেতার সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।চার দিন ধরে ডিভিশন না দিয়ে সরকার আমাদের নেত্রীকে একজন অর্ডিনারি প্রিজনার হিসেবে কষ্ট দিয়েছে। সরকার জেল কোড ভঙ্গ করেছে। আমরা সরকারের এহেন কর্মকান্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।মির্জা আব্বাস বলেন, যত ষড়যন্ত্র হোক, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশে নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েই হবে। তাকে ছাড়া কেউ নির্বাচন চিন্তা করলে সেটা হবে দুঃস্বপ্ন।জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি হয়। তোপখানার মোড় থেকে হাই কোর্টের কদম ফোয়ারা পর্যন্ত পুরো এলাকায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এই মানববন্ধনে অংশ নেয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নেতা-কর্মী জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমবেত হয়ে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই’, খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ ইত্যাদি শ্লোগান দিতে থাকে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী ও কৃষিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতা-কর্মীরা এতে সমবেত হয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। বিপুলসংখ্যক মহিলা কর্মী-সমর্থকরাও অংশ নেন।

মানববন্ধনে স্থায়ী কমিটির নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ ফুটপাতে উঠে মাইক ছাড়া বক্তব্য রাখেন।এই মানববন্ধনে বিএনপির কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, মাহমুদুল হাসান, মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জয়নাল আবেদিন (ভিপি জয়নাল), জয়নুল আবদিন ফারুক, গোলাম আকবর খন্দকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম আলিম, শামীমুর রহমান শামীম, নিলোফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতার, রাশেদা বেগম হীরা, আবদুল আউয়াল খান, কাদের গনি চৌধুরী, তাবিথ আউয়াল, বেবী নাজনীন, নেওয়াজ হালিমা আরজু, অপর্ণা রায়, নিপুণ রায় চৌধুরী ব্ক্তব্য দেন।মহানগরের কাজী আবদুল বাশার, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আহসানউল্লাহ হাসান, তানজীর আহমেদ রবিন, যুব দলের সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতান আহমেদ, জাসাসের অধ্যাপক মামুন আহমেদ, শায়রুল কবির খান, শাহিনুল ইসলাম শায়লা, ছাত্র দলের মামুনুর রশীদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, উলামা দলের এম এ মালেক ও শাহ নেসাররুল হক সেখানে ছিলেন।২০ দলীয় জোটের কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, লেবার পার্টির একাংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, অপর অংশের হামদুল্লাহ মেহেদি, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, সাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, এনপিপি‘র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনপিযি‘র গোলাম মূর্তজা, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ ও ডিএল‘র সাইফুদ্দিন মনিও ছিলেন।মানববন্ধন উপলক্ষে সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কাছাকাছি রাখা হয় জল কামানের গাড়িসহ পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকটি মাইক্রোবাস।খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি দুইদিন বিক্ষোভ কর্মসূচির পর শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে তিন দিনের টানা কর্মসূচি ঘোষণা করে, যার প্রথম কর্মসূচি মানববন্ধন।মঙ্গলবার হবে ঢাকাসহ সারাদেশে অবস্থান এবং পরদিন বুধবার অনশন কর্মসূচি।