বর্তমান পদ্ধতিতে প্রশ্ন ফাঁস রোধ সম্ভব নয়: শিক্ষা সচিব

125

নানা চেষ্টার পরও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে না পারায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।এসএসসির পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধে ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না- হাই কোর্টের এই রুল জারির পর তার বক্তব্য, বর্তমান পদ্ধতিতে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভবপর নয়।সবার মতামত নিয়ে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে বলে জানালেও চলতি এসএসসির পর এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হবে না, তেমন নিশ্চয়তাও দিতে পারেননি সচিব।

সোহরাব বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব নয়। আমাদের নতুন এমন কোনো প্রক্রিয়া, এমন কোনো পদ্ধতিতে যেতে হবে, যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ থাকবে না।গত কয়েক বছর ধরেই পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। এ মাসের শুরুতে এসএসসি পরীক্ষার শুরুর আগে শিক্ষামন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিলেও তা থামেনি; প্রতি পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্ন চলে আসছে ফেইসবুকে।পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যে তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বুধবার বলেন, প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে পরীক্ষার্থীর হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত বহু মানুষের সম্পৃক্ততা থাকায় এই পদ্ধতির পরিবর্তন ছাড়া প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ সম্ভব নয়।তার একদিন বাদে সাংবাদিকদের সামনে এসে একই কথা বলেন করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব।তার মতে, প্রশ্ন আগেও ফাঁস হতে, কিন্তু এখন তা বিস্তৃত হচ্ছে ইন্টারনেটকে মাধ্যম করে।এখন প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে মহূর্তের মধ্যে সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। যদি ইন্টারনেট না থাকত, তবে ফাঁস হলেও এতবড় সর্বনাশ হত না। সেটি সীমিত, হয়ত কেউ জানতেই পারত না।নৈতিক অবক্ষয়কেও প্রশ্ন ফাঁসের জন্য দায়ী করেন তিনি। আমরা যখন ইনকোয়ারি করেছি, মনে হয়েছে আগে মানুষের নৈতিকতা-আদর্শবোধ অনেক তীক্ষè ছিল, তখন কেউ ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পেলেও নিজের বন্ধুকে বলত না, ভাবত মানুষ আমাকে নোংরাভাবে দেখবে। এখন তো অন্যরকম হয়ে গেছে। এখন গার্ডিয়ান থেকে শুরু করে সবাই এরমধ্যে ইনভলব হয়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন ফাঁস প্রতিরোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আপ্রাণ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।সচিব সোহরাব বলেন, মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও তিনি চেষ্টা করছেন।আমি অবিলম্বে এটি (প্রতিবেদন) মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে দেব। আমাদের যারা গুণী ব্যক্তিরা আছেন, তাদেরকে নিয়ে বসে নতুন কোনো পথ উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়, তাহলে পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব।এখন যে পরিস্থিতি সেই পরিস্থিতিতে সকলে মিলে একটা উপায় বের করতে হবে, যে প্রক্রিয়া প্রশ্ন আউটের কোনো ব্যাপার থাকবে না। সেই প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করার জন্য সকলে মিলে এগিয়ে আসতে হবে।পরিকল্পনা থাকলেও সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় প্রশ্ন না ছাপিয়ে সকাল ১০টায় সব কেন্দ্রের স্ক্রিনে একযাগে সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ার কথা বলেন। সেটা করতে পারলে প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ থাকবে না। সেটা করতে গেলে বিশাল ধরনের কেন্দ্র সংখ্যা, কেন্দ্রের যে পরিস্থিতি, এখনও ওই পর্যায়ে যেতে পারি নাই।

পরবর্তী পরীক্ষা কীভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্ত রাখা যায়, সারা দিন-রাত তাই নিয়ে কাটছে সচিব সোহরাবের; কিন্তু সেথানেও কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না তিনি।আমি বার বার বলছি যে বাস্তবতা হচ্ছে এখানে ৩০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট। ৩০ হাজারের মধ্যে আমি মনে করি যে একেবারে সবাই অনেস্ট ও সিনসিয়ার। কিন্তু দু-চারজনও ৃ যদি এই জঘন্য অপকর্মটি করেন, তাহলে প্রত্যেকের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে, সততার কোনো মূল্য থাকছে না আর।প্রশ্ন ফাঁস হলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে বলে আগের ঘোষণার বিষয়ে সচিব বলেন, এ বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে তাদের সুপারিশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।আগে প্রশ্ন ফাঁস হলে পরীক্ষার বাতিলের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, এবার দেরি কেন- এই প্রশ্নে সোহরাব বলেন, “আগে আগের দিন প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। ৃট্রেজারি অফিসার যদি সবাইকে নিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পান, তবে ওই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয় না।হাই কোর্ট যে রুল দিয়েছে; তাতে সচিব হিসেবে সোহরাবকেও জবাব দিতে হবে।এ বিষয়ে তিনি বলেন, আদালত যে আদেশ দেবে আমরা অবশ্যই পরিপূর্ণভাবে প্রতিপালন করব। আমাদের কোনো নিষ্ক্রিয়তা থাকলে সেই বিষয়ে আমাদের বক্তব্য অবশ্যই আদালতের কাছে উপস্থাপন করব।