মনু খুনের মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের মৃত্যুদন্ড বহাল

138

ঢাকার মিরপুরের আওয়ামী লীগ নেতা মনিরউদ্দিন মনু খুনের মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেনের মৃত্যুদ- বহাল রেখেছে উচ্চ আদালত।বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের দেওয়া আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের রায়ে মামলাটিতে আরও চার আসামির মৃত্যুদ- বহাল রাখা হয়। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের বেঞ্চ এই রায় দেয়।এক যুগ আগে খুন হয়েছিলেন মিরপুর ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মনু। সেই মামলার রায়ে ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ সাতজনকে মৃত্যুদন্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছিল।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত সাতজন হলেন- মিরপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত, মো. মিন্টু, মো. মাসুদুর রহমান তোতা ওরফে তোতলা মাসুদ, লিটন হোসেন লোটাস ওরফে নূরুজ্জামান, মো. নোবান ইবনে বাশার ওরফে বাবু, মাসুদুর রহমান সোহেল এবং মো. হাসান সারওয়ার জিকু।এদের মধ্যে শাহাদাত, মিন্টু, তোতা মাসুদ, লিটন ওরফে নূরুজ্জামান ও বাবুর মৃত্যুদন্ড বহাল রইল বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। সোহেল ও জিকুকে মৃত্যুদন্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে হাই কোর্ট। এছাড়া জাহানারা নামে আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন দিয়েছিল বিচারিক আদালত। সে সাজা বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষসন্ত্রাসী শাহাদাত পলাতক। তিনি বিদেশে থেকে দেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মদদ জোগান বলেও অভিযোগ রয়েছে। আসামিদের মধ্যে সোহেল, জিকু, লিটন ও বাবু কারাগারে আছেন। বাকিরা পলাতক।রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির বলেন, রায়ে আদালত বলেছে, মাসুদুর রহমান তোতা ওরফে তোতলা মাসুদ, লিটন হোসেন লোটাস ওরফে নূরুজ্জামান সরাসরি হত্যাকা-ে অংশ নেয়, গুলি করেছিল।আর শাহাদাত, মো. মিন্টু এ হত্যাকা-ের মাস্টারমাইন্ড। এ দুজনই এক কোটি টাকা চেয়েছিল মনির উদ্দিন মনুর কাছে। এই টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়।

মনু হত্যাকান্ডে সোহেল ও জিকুর সহযোগিতা থাকলেও তারা সরাসরি হত্যাকান্ডে অংশ নেননি বিবেচনায় তাদের ফাঁসি থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে বলে জানান বশির আহমেদ।মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিরপুরের ৪৯/৩ শাহআলী বাগে বাসার সামনে মিলাদ মাহফিলের তবারক বিতরণ শেষে খুন হন মনু।মনুকে পরপর আটটি গুলি করা হয়েছিল। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।হত্যাকান্ডের দিনই নিহতের ভাই মো. আকবর আলী থানায় মামলা করেন।মামলায় অভিযোগ করা হয়, শাহাদাত ও মিন্টু মিরপুর এলাকার ব্যবসায়ী মনুর কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে না পেয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটায়।