মানববন্ধনে আটক, পুলিশি রিমান্ড শেষেই ছাত্রদল নেতার মৃত্যু!

আইন-শৃঙ্খলা বা‌হিনী (ডি‌বি)‌ নির্যাত‌নে ছাত্রদল নেতা মিল‌নের মৃত্যু হ‌য়ে‌ছে ব‌লে অ‌ভি‌যোগ ক‌রে‌ছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদ‌লের ভারপ্রাপ্ত সভাপ‌তি মামুনুর র‌শিদ মামুন। মানববন্ধন থেকে আটকের পর তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে মারা গেছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি ও তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলন।

সোমবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাসুদ নামে এক কারারক্ষী ছাত্রদল নেতাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা জাকিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, পুলিশি নির্যাতনে গুরুতর আহতাবস্থায় চিকিৎসার অভাবে ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলন অকালে মারা যান।

ফখরুল জানান, মিলনকে গত ৬ মার্চ গ্রেফতার করে পুলিশ। পর দিন আদালতে হাজির করে রমনা থানা পুলিশ তাকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে মিলনকে রমনা থানায় রিমান্ডে নেয়া হয়। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়। টানা তিন দিন রিমান্ডে থাকার পর সোমবার ভোরে কারাগারে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয় বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

ফখরুল অভিযোগ করেন, সরকার ধারাবাহিকভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে রিমান্ডে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও কারান্তরীণ করছে। এর মাধ্যমে তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ করে মৃত্যু পথযাত্রী করা হচ্ছে। মিলনের মৃত্যুর বিষয়ে তার দুলাভাই রাশেদুল হক জানান, মিলনের বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুর থানার বাহাউদ্দিন মুন্সিকান্দি গ্রামে। গাজীপুরের টঙ্গি এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন মিলন।

তিনি জানান, ৬ মার্চ বিএনপির মানববন্ধন শেষ করে ফেরার সময় শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পরে ডিবি পুলিশের তিন দিনের রিমান্ড শেষে রোববার সন্ধ্যায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যুর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ। তারা মিলনের মৃত্যুর বিচার দাবি করেছেন।

নিহত জাকির হোসেনের কারাবন্দি নং-১০৯৬৫/১৮। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুর থানার বাহাউদ্দিন মুন্সিকান্দি এলাকায়। তার বাবার নাম সানাউল্লাহ। বর্তমানে তারা টঙ্গীর মাজুখাল এলাকায় থাকেন। মাহি অাক্তার (৮) ও অায়েশা অাক্তার (আড়াই বছর) নামে তার দুই মেয়ে রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। বিষয়টি ডিবি পুলিশ দেখছে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ এ বিষয়ে ডিবি পুলিশের ডিবি দক্ষিণ জোনের ডিসি জামিল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।