পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতটি দেখা হলো না ফারুক ও তার শিশু সন্তানের

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতটি দেখা হলো না গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগর হাওলা গ্রামের এফ এইচ প্রিয়ক ওরফে ফারুক হোসেন ও তার তিন বছরের একমাত্র সন্তান প্রিয়ংময়ী তামাররার। বেড়ানোর উদ্দেশ্যে স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি ও তাদের একমাত্র সন্তান প্রিয়ংময়ীকে নিয়ে ফারুক বিমানে চড়ে নেপাল গিয়েছিলেন। একই বিমানে চড়ে ফারুকের মামাতো ভাই মেহেদী হাসান অমিত ও অমিতের স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তারও নেপাল যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাদের সেই আনন্দ সফর পরিণত হয়েছে বিষাদে। সোমবার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নেপালেই মারা গেছেন ফারুক ও তার মেয়ে প্রিয়ংময়ী। ফারুকের স্ত্রী এ্যানিসহ বাকি তিনজন দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে নেপালের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন তাদের পরিবারে চলছে শুধুই আহাজারি।

নিহত ফারুক হোসেনের মামা মশিউর রহমান নয়েস জানান, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিমানে চড়ে আকাশ থেকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতটি দেখার প্রবল ইচ্ছা ছিল ফারুকের। সেজন্য বেশ কয়েক দিন ধরেই চলছিল নানা আয়োজন। সে ইচ্ছা পূরণ করতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ইউএস বাংলার বিমানে চড়ে বাংলাদেশ থেকে সোমবার নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা হয় ফারুক। একই বিমানে চড়ে ফারুকের মামাতো ভাই মেহেদী হাসান অমিত ও অমিতের স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তারও নেপাল যাচ্ছিলেন বেড়াতে। কিন্তু বিমান দূর্ঘটনার কারনে সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। উভয় পরিবারের ৫ সদস্যের মধ্যে দূর্ঘটনায় ফারুক ও তার মেয়ে প্রিয়ংময়ী নিহত হয়েছে এবং অন্যরা গুরুতর আহতাবস্থায় নেপালের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি জানান, সোমবার দুপুরে বিমান বিধ্বস্তের খবর জানার পর থেকেই ফারুকের মা ফিরোজা বেগম বেশ উদ্গ্রীব ছিলেন। এরপর নিজের সন্তান ও নাতনীর মৃত্যুর সংবাদ জানার পর থেকে তিনি আহাজারি করে চলেছেন এবং মাঝে মধ্যেই মুর্ছা যাচ্ছেন। এদিকে, উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েক স্বজন হতাহতদের খোঁজ নিতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এদের মধ্যে মেহেদী হাসানের শ্বাশুড়ি সালমা বেগম, ফারুক হোসেনের বন্ধু সোহানুর রহমান সোহাগ ও মাহবুবুর রহমান রয়েছেন। তারা কাঠমুন্ডু পৌছে দেশে স্বজনদের জানিয়েছেন সেখানকার কাঠমুন্ডু হাসপাতালের মর্গে রয়েছে ফারুক ও প্রিয়ংময়ীর ঝলসে যাওয়া লাশ। অপরদিকে দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত এ্যানিসহ ওই দুই পরিবারের বাকি তিনজন নেপালের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে স্বামী ও সন্তানের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনো এ্যানিকে জানানো হয়নি। স্বামী-সন্তানকে হারিয়ে ফারুকের স্ত্রী এ্যানি এখন একা হয়ে গেছে। দেশে ফিরে এলে ফারুকের স্ত্রী এ্যানিকে কিভাবে আমরা সান্তনা দিব সে ভাষা আমাদের জানা নেই।

স্বজনরা জানায়, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগর হাওলা গ্রামের শরাফত আলী ও ফিরোজা দম্পতির একমাত্র সন্তান ফারুক হোসেন। প্রায় ৫বছর আগে ফারুকের বাবা শরাফত আলী মারা যান। স্থানীয় জৈনাবাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক লাগোয়া গুলশান স্পিনিং মিল সংলগ্ন দৃষ্টি নন্দন ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেন ফারুক। বাবার মৃত্যুর পর এ বাড়িতেই মা ও স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাস করেন ফারুক। ফারুক একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রী অর্জনের পর নেশা হিসেবে ফটোগ্রাফিতে নজর দেন। তাঁর প্রিয় শখ ছিল ছবি তোলা। ছবি তোলার জন্য তিনি Bengal Image National Photo Contest 2016 পদক জিতেছেন। তার ইচ্ছা ছিল নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।