লড়াই করেও হারলো বাংলাদেশ

জয়ের আশা করতে দোষ নেই। ভারতের বিরুদ্ধে ছোট ফরম্যাটের ক্রিকেটে কোন জয় নেই, তবুও আশা ছিল একটি জয়ের। কেননা গত ম্যাচেই রেকর্ড গড়ে লঙ্কানদের বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আজ আর পারলো না মাহমুদুল্লাহ বাহিনী। ভারতের ১৭৬ রানের জবাবে ১৫৯ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। ফলে ১৭ রানের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগারদের।

গত ম্যাচে ২১৫ রান তাড়া করে জেতা বাংলাদেশকে এদিন সেই রূপে দেখা যায়নি। পাওয়ার প্লের মধ্যে ৪০ রান তুলতেই ক্রিজে ফিরে যান লিটন, সৌম্য ও তামিম। মুশফিকের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেও কোন ফায়দা লুটতে পারেননি অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। ব্যাক্তিগত ১১ ও দলীয় ৬১ রানে তিনিও ফিরে যান। সাব্বিরকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন গত ম্যাচের নায়ক মুশফিকুর রহিম। বেশ আশাও জাগিয়েছিল এ জুটি। ৬৫ রানের জুটি গড়ার পথে ২৩ বল থেকে ২৭ রান করে শার্দুলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান সাব্বির।

এরপর দলকে জয়ের স্বাদ উপহার দিতে তখনো ক্রিজে লড়ছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেননি। ৪২ বলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন। ৫৫ বলে ৭২ রান করে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করলেও কাক্সিক্ষত সাফল্য পাননি মুশফিকুর রহিম। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ১৫৯। জয় থেকে তখনো ১৭ রান দূরে।

ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফিতে আজ কলম্বোতে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। শুরুতে দুই ওপেনারের জুটিতে আসে ৭০ রান। ২৭ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে রুবেলের বলে ফিরে যান শিখর ধাওয়ান। কিন্তু রানের গতি আটকানো যায়নি।

এরপরের জুটি যেন আরো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। রায়না ও রোহিত জুটি থেকে আসে ১০২ রান। ৫৪ বল মোকাবেলা করা এ জুটি ভাঙ্গে ইনিংসের ৫ বল বাকি থাকতে। ৩০ বলে ৪৭ রানে ক্রিজে থাকা রায়নাকে ফিরিয়ে আবারো উইকেটের দেখা পান রুবেল হোসেন। ৬১ বলে ৮৯ রান করা রোহিত শর্মা ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হয়ে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৬।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সফল হয়েছেন শুধুমাত্র রুবেল হোসেন। ৪ ওভার বোলিং করে ২৭ রানে ২টি উইকেট নেন তিনি।এই ম্যাচ শেষে ত্রিদেশীয় সিরিজের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করলো ভারত। অপর দুই দল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সমান ম্যাচে পয়েন্টও সমান। ৩টি করে ম্যাচ শেষে ১টি করে জয় দুই দলের। ফাইনালে ভারতের সঙ্গী হতে আগামী ১৬ তারিখে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। সেই ম্যাচের জয়ী দলই ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল খেলবে ১৮ মার্চ।