জীবনের থেকে বেশি মূল্যবান জিনিস আর কিছু হতে পারে না। সেই জীবনকে তাড়াতাড়ি কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। এই বার্তা দিয়ে প্রতিবাদ মিছিলে উত্তাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুবসমাজের নেতৃত্বে এই মিছিলে পা মেলাল আট থেকে আশি। দাবি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন আনতে হবে দেশে। দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ভয়াবহ হামলার পর কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিলে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে বিশ্বের প্রায় ৮০০ শহরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন জানিয়েছে, ওয়াশিংটন, ফিলাডেলফিয়া ও পার্কল্যান্ড ফ্লোরিডায় প্রথমে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের মূল স্লোগান ছিল ‘মার্চ ফর আওয়ার লাইভস’ বা ‘জীবনের জন্য মিছিল’। বিক্ষোভাকারীরা তাদের জীবনের প্রতি মূল্য দিতে এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করার দাবি জানান। এসব বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগ ছিলেন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমেরিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলার প্রতিবাদেই মূলত তারা এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। গতমাসে ফ্লোরিডার একটি স্কুলে এক কিশোরের গুলিতে ১৭ জনের মৃত্যুর পর এই বিক্ষোভকে মার্কিন অস্ত্র আইন বিরোধী সর্বোচ্চ প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসময় সারাদেশ থেকে আগত বিক্ষোভকারীরা রাজধানী ওয়াশিংটনে এসে জড়ো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর আরো প্রায় ৮০০ শহরে একই ধরণের প্রতিবাদ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। মার্কিন জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে একই সময়ে লন্ডন, মাদ্রিদ, প্যারিস, এডিনবার্গ, জেনেভো, সিউল, টোকিও ও সিডনিতেও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এর ফলে আয়োজকরা আশা করছেন, দেশের প্রচলিত অস্ত্র আইনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটাবেন ক্ষমতাসীন ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউজের তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক মতামত জরিপ থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ প্রচলিত আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে পরিবর্তন চান। ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, যে কোনো মানুষের পক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজপ্রাপ্তির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা প্রয়োজন। কিন্তু এ কাজের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন অস্ত্র ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষক রাজনীতিবিদরা।