ঝিনাইদহে বর্ষবরণ উপলক্ষে অষ্টক পালাগান অনুষ্ঠিত

বর্ষবরণ উপলক্ষে ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রণয়লীলা বিষয়ক আখ্যান পালাগান ‘নৌকা বিলাস’। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রোববার রাতে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট মুক্তমঞ্চে পরিবেশিত হয় বাংলার প্রচলিত এই পালা। মন্ত্রমুগ্ধের মত উপভোগ করে আগত দর্শকরা। রাত ৮ টা থেকে শুরু হয় শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রণয়লীলা বিষয়ক আখ্যান পালাগান। কেউবা বসে আবার কেউবা দাড়িয়ে উপভোগ করেন এ পালা। এ পালা দেখে খুশি দর্শক। জেলা সদর ও শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় এ পালা গানে। তারা রাধা ও ৮ জন সখী গোপীদের সাজ সেজে নৌকা বিলাসে অভিনয় করেন। মুলত ভবনদী পার হওয়ার মূল বিষয়বস্তু পরিবেশিত হয় এ পালায়। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে তৈরী হয় অষ্টক গানের পালা। আগের দিনে বিভিন্ন গ্রামে অষ্টক গানের দল গড়া হত। তারা চৈত্র মাস থেকে জৈষ্ঠ্য মাস পর্যন্ত গ্রামে গ্রামে অষ্টক গান পরিবেশন করত। চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এ গানের কদর বেশি ছিল। বাংলার চিরায়িত এ পালা দেখে মুগ্ধ দর্শক।

শিল্পী হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, অষ্টক পালাগান অনেকটা হারিয়ে যেতে বসেছে। আর্থিক সংকটের কারণে শিল্পীরা এ পালাগান আর করতে চান না। তাই সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হারানো এই এতিহ্য আবারো বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানের নির্দেশক সরোওয়ার জাহান বাদশা বলেন, অষ্টক পালাগান মুলত ধর্মীয় একটি পালা। যদিও আমরা রূপক অর্থে বিভিন্ন রঙ রস দিয়েছি। পরপারে যাওয়ার জন্য প্রতিটি ধর্মে যে নির্দেশনা আছে তা এ পালায় তুলে ধরা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, অসাম্প্রদায়িক উৎসব হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা হচ্ছে এই পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান। সমস্ত ধর্মান্ধতা বাদ দিয়ে, অন্ধকারাচ্ছন্ন মতবাদ বাদ দিয়ে সবাই মিলে কাঁধে কাধ মিলিয়ে, হাতে হাত রেখে বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যায় এ উদ্দেশ্যেই এ ধরনের আয়োজন।