এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি টাকা জমা: ব্যবসায়ীকে তলব

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীকে তলব করেছে সংস্থাটি। কিন্তু সংস্থাটির কেউ এ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দায়িত্বশীল একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।দুদকের গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, মোহাম্মদ শাহজাহান ও নিরঞ্জন সাহা নামের দুই ব্যবসায়ীকে তলব করে চিঠি পাঠিয়েছেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। ৬ মে সকাল নয়টায় তাঁদের দুদকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ফারমার্স ব্যাংকে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে চার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন ওই ব্যবসায়ীরা। পরে ওই টাকা রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে।সূত্র জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্যক্তি হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

এদিকে, এক নারীকে ‘তুলে নিয়ে বিয়ে করার’ অভিযোগ নিয়ে আলোচনায় থাকা পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ মে তাকে ডাকা হয়েছে সেগুন বাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে।বুধবার দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীর সই করা নোটিসে ওই দিন সকাল ১০টায় মিজানকে হাজির হতে বলা হয়েছে।দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, মিজানের নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।এই অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের জন্য গত ১০ ফেব্র“য়ারি দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করে দুদক।

পুলিশের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, ডিআইজি মিজান পুলিশের উচ্চ পদে থেকে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। চাকরি জীবনে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা উপায়ে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।তার নামে-বেনামে বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে। একাধিক ব্যাংক হিসাবে রয়েছে বিপুল অর্থ ও ফিক্সড ডিপোজিট। এই বছরের জানুয়ারিতে পুলিশ সপ্তাহ শুরুর আগে পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক মিজানের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান রেখে আরেক নারীকে জোর করে বিয়ের অভিযোগ ওঠার পর ব্যাপক তোলপাড় হয়।এরপর মিজানকে ঢাকা মহানগর পুলিশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ডিআিইজি পদ মর্যাদার এই কর্মকর্তা ডিএমপিতে অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন।