একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমরা সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেকের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। নিশ্চয়ই তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো আমরা।বুধবার (২ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একটি প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। সাম্প্রতিক সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। লন্ডনে অবস্থানরত তারেকের বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দিয়ে দেওয়া এবং তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলের বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অনেক দেশ থেকে এ ধরনের আসামি নিয়ে আসি। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেকের বিষয়েও আমরা ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। নিশ্চয়ই আমরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো।

তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করায় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তারা চেয়ারপারসন করলো। বিএনপি নাকি সবচেয়ে বড়, জনপ্রিয় দল, তাদের দলে কি একজন যোগ্য লোকও নেই? এ ধরনের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তারা চেয়ারপারসন করে? এ ধরনের রাজনৈতিক দেউলিয়া দল আর নেই।প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল সামিট অন উইমেনে জাঁকালো অনুষ্ঠানে পাওয়া গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ দেশের নারী সমাজের প্রতি উৎসর্গ করে বলেন, এই পুরস্কার আমি আমার দেশের নারী সমাজের প্রতি উৎসর্গ করেছি। আমাদের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, সেটা বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। লন্ডনে কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রশংসা হয়েছে, সম্মেলনের ঘোষণায় রোহিঙ্গা বিষয়ক অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়েছে। যেটা আমাদের সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করি।সফরে অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসাও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পেয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে কমনওয়েলথ কমনওয়েলথ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সম্মেলনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই সফরকে আমার সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করি, বলেন তিনি।সফরে নরেন্দ্র মোদী, জাস্টিন ট্রুডোসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন,রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এই সফরগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে বলে আমি মনে করি।এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা আমাদের দেশে এসেছেন, তাদের মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক, তারাও চান মিয়ানমার থেকে যে ১১ লাখ মানুষ এসেছে, তারা সেখানে ফিরে যাক।বাংলাদেশ যে যে এতগুলো মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে, তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করেছে, তারা তার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। আমরা আশা করছি, তারা মিয়ানমারকে চাপ দেবে।

তিনি আরেকটি প্রশ্নের জবাবে বলেন, ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব গঠনে নির্বাচনের নিয়ম আছে। সেজন্য প্রার্থীদের আবেদন নেওয়া হয়েছে। প্রথমে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়, সেটা না হলে নির্বাচন হয়। সমঝোতা হয়ে গেলে সেভাবে (প্রেস রিলিজে ঘোষণা) হবে।এবার নির্বাচন নয়, ‘সিলেকশন’র মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচন হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সিন্ডিকেটের নির্বাচনের মাধ্যমে যেন ছাত্রলীগের নেতৃত্ব অন্য কারও হাতে না যায়, সেজন্য এবার ‘সিলেকশন’ হতে পারে বলেও খবর দিচ্ছে বিভিন্ন সূত্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায় সে বিষয়টিই আরও জোরালো হলো। দুর্ঘটনা এড়াতে পথচারীদেরও সড়কের নিয়মগুলো মানার উপর জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এক্ষেত্রে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সহায়তাও চেয়েছেন তিনি।শেখ হাসিনা ঢাকায় ট্রাফিক আইন না মেনে পথচারীদের পারাপারের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, আমার এই কথাগুলো অনেকে পছন্দ করবেন না, কিন্তু যা বাস্তব, তাই বলছি।রাস্তায় চলার নিয়ম আছে, সেটা আমরা কতটা মানি? একটা গাড়ি দ্রুতগতিতে আসছে, আমরা হাত একটা তুলে রাস্তায় নেমে গেলাম, যারা পথচারী, তাদেরও কিছু রুলস জানা দরকার, মানা দরকার। শেখ হাসিনা বলেন, আপনি বাসে চড়ে যাচ্ছেন, কেন আপনি হাত বাইর করে যাবেন?আপনারা (সাংবাদিক) যার হাত গেল, তার জন্য কান্নাকাটি করছেন; কিন্তু সে যে নিয়ম মানছে না, সে কথা তো বলছেন না।

হেলমেট ছাড়া মোটর সাইকেলে এবং সিটবেল্ট না বেঁধে গাড়িতে চড়াও দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।সড়ক পারাপারে পথচারীদের আইন মানার ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরিতে বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোকেও প্রচারের চালানোর আহ্বান জানান তিনি।যারা পথে পারাপার হয়, তারাও নিয়ম মানে কি না, সেদিকে আপনারা একটু দেখেন।সরকারি চাকরিতে কোটা থাকছে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ নিয়ে আর আলোচনারও কিছু নেই।সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা কোটা চায় না, তাদের দাবি মেনে নিয়েছি। এখন আর আলোচনার কী আছে?সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের কথা বলেন। কোটা সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলে সঙ্গে সঙ্গে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়ে আসছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়; তবে প্রজ্ঞাপন না পেয়ে হতাশ আন্দোলনকারীরা।এরপর গত ২৭ এপ্রিল আন্দোলনকারী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তার ঘোষণা কীভাবে কার্যকরে ‘স্বল্প সময়ের মধ্যে’ প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।বিদেশ সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা প্রধানমন্ত্রী চাকরিতে বিভিন্ন কোটা রাখার গুরুত্ব তুলে ধরার পর বলেন, কোটা না চাইলে আর থাকবে না। কোটা সংস্কারের আন্দোলনের পেছনে কারা রয়েছে, তাদের পরিচয় খুঁজে বের করতে বলেন শেখ হাসিনা।আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে ব্যঙ্গ করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা আমার পক্ষে সম্ভব না।এখন জেলা কোটা না থাকলে আন্দোলনকারীদের কেউ পরে চাকরি না পেয়ে তা চাইলে তা পাবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।