গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ভোট সামনে রেখে দলীয় মেয়রপ্রার্থীর সমর্থকদের গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে অঞ্চল দুটির পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়েছে বিএনপি।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাড়া বাংলাদেশের জনগণ কোনো নির্বাচন হতে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মুখপাত্র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেছেন, সরকার যতই কূটকৌশল চালাতে থাকুক খালেদা জিয়া ছাড়া এদেশে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না। বাংলাদেশের জনগণ তা হতে দেবে না। বৃহস্পতিবার (৩ মে) সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বৈরশাসকরা জনগণকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, কারণে-অকারণে জ্ঞান দেয়-বর্তমান সরকারও সেটাই করছে।সরকার যতই কূটকৌশল করে না কেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং সব দলের অংশগ্রহণে। এক তরফা নির্বাচন অনুষ্ঠান হতে দেবে না এদেশের মানুষ।

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, আদালত নয়, সরকারের প্রতিহিংসার রায় হয়েছে খালেদার বিরুদ্ধে। যে দেশের প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করে দেশের বাইরে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হয়, সেখানে আদালতের স্বাধীনতা থাকে না। তিনি বলেন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দলের নেতা-কর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে; চলছে গণগ্রেপ্তার। অবাধ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ দূরে থাক সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যুক্ত হয়েছে সরকারের ইচ্ছাপূরণে ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকদের এলাকা ছাড়া করতে।এমতাবস্থায় আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে গাজীপুর পুলিশ সুপার ও খুলনা মেট্রোপলিটন সিটির পুলিশ কমিশনারকে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় দুই সিটি কর্পোরেশনেই ভোটহরণের নির্বাচন হবে। সেসঙ্গে দুই সিটিতে ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে ফের সেনা মোতায়েনের দাবি জানান রিজভী।আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে।

দুই সিটি কর্পোরেশনে মন্ত্রী-এমপিরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সভা করছে অভিযোগ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয় শেখ হেলাল এমপি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ খুলনায় দুই বার এসে প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের সাথে বৈঠক করেছেন।সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ওই দুই ব্যক্তির নির্দেশনাতেই পুলিশ প্রশাসন নগরীজুড়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। দুই সিটিতে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ক্ষমতাসীন দলের অস্ত্রধারীরা নির্বিঘেœ অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, দুই সিটিতে ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় পুলিশ প্রশাসন বাঁধা দিচ্ছে। গতকাল গাজীপুরের ২৯ নং ওয়ার্ডে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক ও যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার সময়ে জেলার পুলিশ সুপার হারুন ডিবি পুলিশ পাঠিয়ে তাদেরকে বাধা দেয় এবং হেনস্তা করে।খুলনায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীকের পক্ষে প্রচারণাসহ অন্যান্য নির্বাচনী কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ বুধবার রাত ৮টা থেকে গণগ্রেপ্তার শুরু করে। রাতভর মহানগরীর ৫ থানায় প্রচারণায় অংশ নেওয়া ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী সংসদ নির্বাচন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নিয়ে বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমালোচনা করেন এই বিএনপি নেতা।সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিকারগ্রস্ত মনেরই বর্হিপ্রকাশ,এটা স্বৈরতন্ত্রের কণ্ঠস্বর।তার গতকালের বক্তব্য হিংসায়-প্রতিহিংসায় আকুণ্ঠ আপ্লুত। কোটা পদ্ধতি ও আন্দোলনকারীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যে তরুণদের প্রতি ঈর্শার প্রতিফলন ঘটেছে।আন্তর্জাতিক মে দিবসের দিন রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মিন, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ছাত্র দলের সহসভাপতি রুবেল হোসেন, শ্রমিক দলের নেতা ওয়াহাব ও রেজাউল ইসলামসহ ৮ জন নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাসিরউদ্দিন, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ভিপি জয়নাল আবেদীন, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন ও মুনির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।