রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের আরো জোরালো ভূমিকা চায় ওআইসি

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা ও তাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আরও ভূমিকা থাকা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) সহকারী মহাসচিব হাসমী ইউসুফ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অন্য সংস্থার পাশাপাশি জোরালো ভূমিকা রাখবে ওআইসি।শুক্রবার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন ওআইসির প্রতিনিধি দল প্রধান হিশাম ইউসেফ।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং দ্রুত ফেরত নেওয়ার বিষয়ে চাপ দিবে। রোহিঙ্গা সংকটে নিরাপত্তা পরিষদ যতটা ভূমিকা রাখতে পারত ততটা রাখেনি মন্তব্য করে ওআইসি সহকারী মহাসচিব বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর যথেষ্ট ভূমিকা রাখার স্থান ছিল। কিন্তু তারা সে ভূমিকাটা পালন করেনি।ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট প্রধান আলোচনার বিষয় হবে বলেও জানান তিনি।এসময় প্রতিনিধি দলের আরও দুই সদস্য গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

তারা রোহিঙ্গা সমস্যার জন্য মিয়ানমারকে দায়ী করে তাদের নিরাপদে স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানান।এ সময় বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে ছিলেন।শুক্রবার পৌনে ৯টার দিকে বিমানে করে কক্সবাজার পৌঁছে ‘ওআইসি’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে অংশ নিতে আসা প্রতিনিধি দলটি। এরপর কক্সবাজারের একটি হোটেলে সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মকর্তারা প্রতিনিধি দলটিকে ব্রিফিং করে।এ সময় বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী তাদের রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান।এরপর প্রতিনিধি দলটি বেলা ১১টার উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যায়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প আশ্রিত মিয়ানমারের বাসিন্দাদের অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।বিকাল ৪টার প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়া দেয়। সহাকারী মহাসচিব আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ওআইসি কি এবং কিভাবে ভূমিকা পালন করবে এ বিষয়ে ওআইসি’র ৪৫ তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই সম্মেলনে বসার আগেই সরেজমিনে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেছি আমরা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়’ মন্তব্য করে হাসমী ইউসুফ বলেন, সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে এর আগে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রতিনিধি দলটি প্রথমে তানজিমার খোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান।সেখান থেকে কুতুপালং ডি ব্লক পরিদর্শন করেন। সেসময় তারা নিপীড়িত, নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার সময় দোভাষী হিসেবে কাজ করেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কক্সবাজারস্থ কর্মকর্তা হাজেরা খানম। এরপর বেলা ১টার দিকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রতিনিধি দল। উল্লেখ্য, ৫ ও ৬ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ওআইসি’র ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। ওআইসি জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এবারের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে আলোচিত হবে।