শুধু অনুকরণ বা অনুসরণ নয় নকলের মধ্য দিয়ে নিজেকে খুঁজুন!

নকল করা বা কপি করা বিষয়টিকে একটু অন্যভাবে দেখলে কেমন হয়? সময় এসেছে ভেবে দেখার যে নকল করা পণ্য থেকে প্রেরণা নিয়ে দেশে সৃজনশীলতার নতুন এক ঢেউ উঠানো যেতে পারে কিনা ? তাই নকলের উপর আরো কিছু আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। নকল কী ? কেন আমরা নকল করি ? নকল না করলে এর বিপরীত কি অন্য কোনো সমাধান আছে? ইত্যাদি ইত্যাদি। “দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করা ” কথাটি একটি প্রবাদ। কিন্তু সে জ্ঞান হতে পারে “কু”বা সুশিক্ষা। ইন্টারনেটের এই যুগে সবকিছুই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত৷ তাই কোনো কিছু উদ্ভাবন করে তা কপিরাইটের বন্ধনে বেঁধে রাখা কঠিন ব্যপার। জন্মের শুরুতেই আমরা যা দেখছি বা শুনছি তাই শিখছি বা অনুকরণ করছি,অন্য ভাবে বলতে পারি কপি করছি বা নকল করছি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে । তাই বলা যেতে পারে নকল করা বা কপি করা এটা কোন নতুন সমস্যা নয়। সমস্যা হল নকল যদি নিজের বা সমাজের জন্য কোন ভালো ফল ফলাতে না পারে তাহলে সে নকল মানব জাতির জন্য অকল্যাণকর ।নকল করে শুধু পাশ করা বা একটি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করে ভাল একটি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে কর্মজীবনের উন্নতি করা যদি জীবনের উদ্দেশ্য হয় তাহলে সে নকল সৃজনশীল হতে পারে, তবে নকল যদি নিম্ন মান সম্পন্ন হয় তাহলে তার পরিনতি হবে বেকারত্ব, আর জীবন হবে অন্ধকার। জীবনকে বড় করে ভাবতে এবং শিখতে হলে দরকার ভালভাবে শেখা, আর তার জন্য দরকার সৃজনশীল উপায়ে নকল করা এবং শেখা। নকল বা কপি করার সাথে শিক্ষার কি সম্পর্ক থাকতে পারে তার উপর একটু গুরুত্ব দিতে চাই দুটো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে।

জাপানিরা খুব দেশ-বিদেশ ঘোরাঘুরি করে এবং তাদের সাথে সব সময় ক্যামেরা থাকে, তারা যা দেখতে বা জানতে চাই, তার উপর সব সময় ছবি তোলে। তারা বেশ কপি করতে পারদর্শী যা আমরা জানি। তবে তারা শুধু কপি নয়, সাথে কিছু নতুনত্ব ও সংযোজন আনার চেষ্টাও করে। তাদের এই কপি করার মধ্যে রয়েছে জানার জন্য শেখা এবং তাদের থেকেই শেখা, যারা জানে।এখন এই জানা অজানার মাঝে আমার জীবনের নকলের বা কপি করার উপর কিছু অভিজ্ঞতার বর্ননা করছি।

২০০১-২০০২ সালে আমাকে জাপানে পাঠানো হয় দুটো কম্পানী পরিদর্শন করতে, একটা “ তোশিবা কম্পিউটার কোম্পানি” আরেকটি “টয়োটা গাড়ি কোম্পানি” যদিও আমি কাজ করি ফার্মসিউটিক্যালস ইনডাস্ট্রির উপর। কেন আমাকে পাঠানো হল ওই দুটি ভিন্ন ধরনের কম্পানীতে? কারন ছিলো একটাই (learning from learners) যারা জানে তাদের থেকে শেখা। মিস্টার টয়োটার সাথে তাঁর প্রোডাকশন ফ্যাসিলিটি দেখা। তিনি কথা হতেই বলেছিলেন “Please stay here and have a good look,I will be back after 5 minuets,” তিনি ৫ মিনিট পরে ফিরেছিলেন এবং আমাকে সেই ৫ মিনিটের মধ্যে যা আমি দেখেছিলাম তার উপর কথা বলেছিলেন দীর্ঘ তিন দিন। তাঁর প্রশ্ন ছিলো কী কী দেখলাম? কী না দেখলাম? যা দেখলাম তা কেন দেখলাম,ইত্যাদি ইত্যাদি। গাড়ির জগতে কম খরচে ভাল কোয়ালিটি সম্পন্ন গাড়ি তৈরি করা আবশ্যক। তাই “টয়োটা” কাইজেন (Kaizen)তত্ত্বের আলোকে পর্যবেক্ষণ করে উৎপাদনের প্রতিটি পদক্ষেপ। (Kaizen, is known as continuous improvement, is a long-term approach to work that systematically seeks to achieve small, incremental changes in processes in order to improve efficiency and quality.) আমাকে পাঠানো হয়েছিল এই “Kaizen” তত্ত্ব শিখে নকল বা কপি করে সেটাকে কাজে লাগানোর জন্য, ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রতে। “তোশিবা” থেকে শিখেছিলাম, নকল বা কপি করেছিলাম তাদের কার্যকর উপায় এবং সাথে দক্ষ পরিচালনা।

পরবর্তীতে ২০০৩ সালে পাঠানো হলো আমাকে হল্যান্ডে, কারন ছিল একটাই, নকল বা কপি করা ,জানতে গিয়েছিলাম মনুষ্যত্বের সাথে তাদের শিল্প ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক। হল্যান্ড একটি মজার দেশ যাদের নৈতিক মূল্যবোধ পৃথিবীর মধ্যে খুব উন্নতমানের। কারন তাদের শিক্ষার হার ১০০% এবং তাদের ভাল মন্দের বেশির ভাগ দায়িত্ব তারা নিজেরাই বেশির ভাগ সময় নির্ধারন করে, তাদের অপরাধ থেকে শুরু করে সব ধরনের খারাপ অভ্যাসের পরিমান কম, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়।
Lessons learned…
Hard work and dedication is what takes you from the bottom to the top, there are no short cuts, no secrets to success, it’s the result of preparation, hard work and learning from learners and from failure are the keys to success.
আমার শিক্ষা থেকে এটাই একজন “পরামর্শক” হিসাবে বলতে চাই যে বিশেষায়িত শিক্ষক প্রশিক্ষন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ধরনের আলোচনা হবে যাতে করে একটি দুর্বল শিক্ষা প্রশাসনও ধীরে ধীরে সুশিক্ষার দিকে অগ্রসর হতে পারে। শিক্ষাজ্ঞনে একটি সুইফট ম্যানেজমেন্ট আনতে পারলে বাংলাদেশে সুশিক্ষা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে তার জন্য দরকার সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহন ও প্রেরণা, তত্ত্বাবধান। তা না হলে চলতে থাকবে যেমনটি চলছে “ মাসে মাসে বেতন থেকে শুরু করে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্তা রয়েছে,অথচ “they are not doing their job,” হতে পারে তারা জানেন না কী করতে হব বা কেন করতে হবে ? অথবা “they are just good for nothing or something else.” আমি বলব এর কারন একটাই তা হল “শিক্ষাপদ্ধতির দুর্বল ব্যবস্হাপনা।

তাই আমি মনে করি শিক্ষামন্ত্রনালয় এবং শিক্ষা প্রশাসনকে একত্রে করে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে এই বিশেষায়িত শিক্ষক প্রশিক্ষন বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসেপ্ট চালু করে সুশিক্ষা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তার জন্য সত্বর প্রয়োগ করতে হবে management by objectives theory to get the answer for our future and compare our past with our present. To discover ourselves, we must know our nature to know our power, we must find our weakness to be hard and learn how to listen as long as we follow our path with faith, and finally with dedication and hard work,-ফিরে পাব আমরা আমাদের মনুষ্যত্ব এবং আমরা হব সুশিক্ষায় শিক্ষিত।

– রহমান মৃধা, পরিচালক ও পরামর্শক, স্টকহোম, সুইডেন।