আটলান্টিক মহাসাগরে মার্কিন স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য নিজেদের দ্বিতীয় নৌবহর পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী।রাশিয়ার বাড়তে থাকা সামরিক প্রভাব মোকাবিলায় ভেঙে দেওয়ার সাত বছর পর বহরটি আবার গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শুক্রবার মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল জন রিচাডসন বলেছেন, নিরাপত্তা পরিবেশ ক্রমাগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও জটিল হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে আমরা আবার ফিরে গেছি, আমাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল এটি পরিষ্কার করছে।পূর্ব উপকূলে ও আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে নির্ধারিত জাহাজ, বিমান ও অবতরণ বাহিনীগুলোর কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব দ্বিতীয় নৌবহরের অধীনে থাকবে।মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় নৌবহরের কমান্ড সেন্টার হবে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের নরফোকে। এটি শুরুতে ১৫ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে কার্যক্রম শুরু করবে যার সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ২০০ জনে দাঁড়াবে।কে দ্বিতীয় নৌবহরের নেতৃত্ব দিবেন এবং এর অধীনে কী কী সম্পদ থাকবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।খরচ কমানো ও সাংগঠনিক কাঠামোর কারণে ২০১১ সালে দ্বিতীয় নৌবহর ভেঙে দিয়েছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ।পরবর্তিত ইউক্রেইন ও সিরিয়ার মতো বিভিন্ন সংঘাতে রাশিয়া নিজেদের সামরিক সামর্থ্য জাহির করা শুরু করলে মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সামরিক উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।চলতি বছরের প্রথমদিকে নতুন এক জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলপত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলে রাশিয়া ও চীনের মোকাবিলা করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইকে গুরুত্ব দেওয়ার পর নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলের এ ঘোষণা মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতি পরিবর্তনের সর্বশেষ ইঙ্গিত ছিল।নতুন এই কৌশলপত্র উপস্থাপনের সময় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস চীন ও রাশিয়াকে সংশোধনবাদী শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশ দুটি তাদের স্বৈরাচারী মডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছিলেন।
সাবেক সোভিয়েত আমলের চেয়ে রাশিয়ার বর্তমান নৌবাহিনী আকারে ছোট হলেও বাল্টিক সাগর, উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরে রাশিয়ার নৌবাহিনীর টহল বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।