এবারের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার গত নয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হলেও এ নিয়ে হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার গণভবনে ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগামীতে এটা আরও বৃদ্ধি পাবে, সেটা আমি আশা করি।গতবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যেখানে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, এবার তা কমে এসেছে ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশে। পাসের এই হার গত ৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে এবারের ফলাফলের অনুলিপি বুঝে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং যারা পাস করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে পড়ালেখায় মনযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।তিনি বলেন, এবার যেহেতু পরীক্ষারীর সংখ্যাও বেশি, সংখ্যার হিসাবে পাসের হার কিছুটা কম মনে হলেও সেটা খুব হতাশাজনক না, কারণ ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ পাস করা, এটাও কিন্তু কম কথা না।শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, দশ শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৪ জন; আগের বছর ছিল ১৭ লাখ ৮২ হাজার, ৯৬২ জন।এ বছর পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন; গতবার পাস করেছিল ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন।ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল ও বান্দরবান জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।বান্দরবানের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে শান্তি, নিরাপত্তা ও একটা স্বস্তিমূলক পরিবেশ আমাদের দরকার। জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। এই দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে।সবার সঙ্গে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে। এখানে কে পাহাড়ি, কে বাঙালি সেটা বড় কথা না। মানুষ মানুষই। মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখতে হবে।সবারই মৌলিক অধিকার আছে এবং সে অধিকার পূরণ করতে হবে বলে জোর দেন সরকারপ্রধান। শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত দেশ আমরা তখনই গড়তে পারব যখন দেশের শতভাগ মানুষ শিক্ষিত হবে। শিক্ষা এমন একটা জিনিস যেটা কখনও কেউ কেড়ে নিতে পারে না।তিনি ছাত্রছাত্রীদের সবাইকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং লেখাপড়ার যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যা যা করা দরকার তার সবই সরকার করছে বলে জানান। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম সুশিক্ষিত হবে, দেশের কর্ণধার হবে সেটাই কামনা। তারা যেন উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, সেটাই আমরা চাই।উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে পার্বত্য জেলাগুলোর পাশাপাশি সারা দেশে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী ।তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশটা যাতে বজায় থাকে সেটা আমি চাই। সকলের সাথে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থা থাকবে। এখানে কে পাহাড়ি, কে বাঙালি সেটা বড় কথা না। মানুষ মানুষই। মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখতে হবে।দুই দশক আগে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দেশের পার্বত্য তিন জেলায় অস্থিরতার অবসানের প্রত্যাশা জাগালেও পাহাড়ি সংগঠনগুলোর নিজেদের কোন্দলে গত পাঁচ মাসেই ১৮ জনের প্রাণ গেছে।সর্বশেষ গত ৩ মে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেএসএসের (এমএন লারমা) অন্যতম শীর্ষ নেতা শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং পরদিন তার শেষকৃত্যে অংশ নিতে যাওয়ার পথে সশস্ত্র হামলায় নিহত হন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের অন্যতম শীর্ষ নেতা তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাসহ পাঁচজন।ভিডিও কনফারেন্সে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, বান্দরবান এক সময় অশান্ত বান্দরবান ছিল। এখন শান্তির বান্দরবানে রূপান্তরিত হয়েছে। উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে এগিয়ে চলেছে।সর্বশেষ ২০১২ সালে এই পার্বত্যজেলায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আবারও আপনাকে দেখার জন্য মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে।প্রধানমন্ত্রী বান্দরবান সফরের চেষ্টা করবেন জানিয়ে সবার মৌলিক অধিকার পূরণে শান্তি আর নিরাপত্তার ওপর জোর দেন।সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী আমি বলব, শান্তি, নিরাপত্তা এবং একটা স্বস্তিমূলক পরিবেশ আমাদের একান্তভাবে দরকার। জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়; ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে। সেই সোনার বাংলাদেশই আমরা গড়তে চাই।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার হার বাড়াতে আবাসিক স্কুল তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, যদিও আমরা যোগাযোগ ববস্থার অনেক উন্নতি করেছি, ছেলেমেয়েরা যাচ্ছে। তবে আমি মনে করি, আবাসিক স্কুল থাকলে পরে তাদেরকে এত দূর দূরান্ত থেকে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। সেখানে থেকে তারা পড়াশোনা করতে পারবে।ইতোমধ্যে কয়েকটি আবাসিক স্কুল চালু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাচ্ছি আরও বেশি আবাসিক স্কুল হোক।শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা গণভবনে এ অনুষ্ঠানে উপসিন্থত ছিলেন।