বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং সকল শ্রেণির শিক্ষককে সুশিক্ষার আওতায় আনতে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হলে বিশেষায়িত শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকল্প নেই। দেশের সকল শিশু শিক্ষা থেকে শুরু করে সব স্তরের শিক্ষকবৃন্দ প্রশিক্ষণ প্রদান ও গ্রহণের একটি সমন্বিত কার্যক্রম যেখানে দেশ, বিদেশের বড় বড় কম্পানি বা সংস্থার মালিক বা সিইও , কর্মকর্তা , গবেষক ,রাজনীতিবিদ , বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকবৃন্দ একত্রিত হয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষকদের পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধি ও যুগোপযোগীকরণে সহায়তা দান করা এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিত্ব, উদ্ভাবনী শক্তি বৃদ্ধি এবং নেতৃত্বের গুণাবলি জাগ্রত করা, নতুন নতুন শিক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে দক্ষতা ও কৌশল বৃদ্ধি করা হবে এই বিশেষায়িত শিক্ষা প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য। এটি পৃথিবীর প্রথম ভিন্নধর্মী একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে সকল শিক্ষকের জন্য একটা মিলন কেন্দ্র। তাই সত্ত্বর শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবর্তন আনতে না পারলে ঝরতে থাকবে নতুন প্রজন্ম আর নিভে যাবে সকল আশার আলো দিনে দিনে।

এমতাবস্থায় শিশুশিক্ষা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কড়া নজর দিতে হবে, কী শিক্ষা, কেন শিক্ষা, শিক্ষার উদ্দেশ্য কী এবং তা কিভাবে মনিটরিং করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। শিশু বিদ্যালয়, শিশুদের জন্য অনুকরণ এবং অনুসরণের জায়গা, সেক্ষেত্রে এই শিক্ষাঙ্গনে থাকতে হবে শিশু মনোবৈজ্ঞানিক, সমাজকর্মী দৃশ্যমান, বিজ্ঞান সম্পন্ন ও বিজ্ঞান মনস্ক শিক্ষা প্রশিক্ষণ যেখানে চর্চা ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে শিশুদের জীবন এবং জীবনের শুরুটা। আছে কি বাংলাদেশের শিশু বিদ্যালয়ে এমন কোন শিক্ষক বা শিক্ষাপদ্ধতি চালু, যেখানে চর্চা হচ্ছে এমন মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা? আছে কি? বা সেইভাবে তৈরি হচ্ছি কি তেমন শিক্ষক, যিনি পারবেন মোকাবেলা করতে ভবিষ্যতের এই শিক্ষাব্যবস্থাকে? তাহলে কি আমরা যেভাবে আছি ঠিক সেই ভাবেই থাকব? নাকি চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মকে শুধু বাংলাদেশী নয় গোটা বিশ্বের নাগরিক করে গড়ে তুলব সুশিক্ষার মাধ্যমে? শিশুদের প্রথম ১-১৫ বছরের মধ্যের সময়টা খুবিই গুরুত্বপুর্ণ। তাদেরকে মানবতার ফর্মে আনতে হলে শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে এবং একই সাথে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরে এবং পর্যায়ক্রমে গড়ে তুলতে হবে সুপ্রশিক্ষণ যেখানে থাকতে হবে earning by learning process, follows by rules and regulation without corruption or interruption.

আমরা বাংলাদেশী আমরা ধ্যানে-জ্ঞানে কোনো অংশেই খারাপ নই অন্য জাতির থেকে, আমরা সব পারি। দুঃখের বিষয় দায়িত্ব ও কর্তব্যশীল ম্যানেজমেন্টের অভাবে আজ শিক্ষার এই অধঃপতন হয়েছে, কিন্তু একি সাথে আমরা এই অবনতিকে সনাক্ত করতে পেরেছ। অতএব এখন সমাধানের সময়। তাই আর দেরি না করে এই বিশেষায়িত শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে তৈরি করতে হবে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক। বর্তমান যে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা জানে না কী ধরনের শিক্ষা দেওয়া দরকার একজন শিশু বিদ্যালয়র শিক্ষককে। পুরো শিক্ষাঙ্গন খুঁজলে পাওয়া যাবে না গুণসম্পন্ন শিক্ষক, শিশু প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় অবধি। অতএব সময় এসেছে ভেবে দেখার মানুষ গড়ার কারিগর হতে হলে নিজেকে আগে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসাবে তৈরি করতে/হতে হবে, মানুষের মত দেখতে হলেই মানুষ গড়ার কারিগর হওয়া যায় না, তার জন্য দরকার mission, vision, policy সাথে devotion, passion, motivation, goals, objectives and action. এবং এর জন্য দরকার learning from learners and learning by doing tools. জানি না কত শত হাজার শিক্ষক বর্তমান রয়েছে সারা বাংলাদেশে যাদের এ ব্যাপারে কোন ধারণাই নেই আমি যা ভাবছি সে বিষয়ে। তবে তাদেরকে সত্বর এই বিশেষায়িত শিক্ষা প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় এনে কাজের মাধ্যমে চাহিদা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করার সুযোগ করে মানুষ গড়ার কারিগর করতে হবে, এবং তখনই সম্ভব দেশে সুশিক্ষা ফিরিয়ে আনা। আমি এর আগে লিখেছি ডিজিটালাইজেশন, management by objectives, higher and fire concept প্রয়োগ করতে হবে এই মুহূর্তে, এবং তা করতে হবে দেশের বৃহহত্তর স্বার্থে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের রদবদল করতে হবে প্রথমে এবং জনগণের মনোনীত প্রার্থী স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে এ কাজ শুরু করতে হবে।
বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনের এই দুর্দিনে সামরিক বাহিনীকে কাঁজে লাগাতে হবে সক্রিয় ভাবে। আমার বিশ্বাস তাঁরাই পারবে এ দায়িত্ব পালন করতে বিশেষ করে প্লানিং টুল ফর এ্যাডমিনিসট্রেশন,ডিসিপ্লিন,সোর্স ইন্টিগ্রেশন, সিনক্রোনাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট।
Hard work pays off, sooner better, so start work, change mindset and bring success for education.

রহমান মৃধা, পরিচালক ও পরামর্শক, সুইডেন।
[email protected]