মরপিুররে লালকুঠতেি এএসআইয়রে স্ত্রীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুরের দারুসসালামে একটি বাসা থেকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কচ টেপ লাগানো শাহানা আলম খান (বিউটি) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে লালকুঠি এলাকার ৩য় কলোনির ২৫২/১ নম্বর টিনসেড বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের নাম শাহানা আলম খান বিউটি (৫০)। ধানমন্ডি ৭ নম্বরের সানিডেল স্কুলের হিসাবরক্ষক ছিলেন তিনি। স্বামী মো. কামাল হোসেন পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে মাগুরা সদর উপজেলায় কর্মরত। স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে গতরাতেই তিনি ঢাকায় আসেন। এএসআই কামাল হোসেন বলেন, লালকুঠির ওই বাসাতে ঘটনার দিন বিউটির বাবা ও ছোটবোন রিতুর স্বামী রইছউদ্দিন ছিল।’

দারুসসালাম থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহত বিউটি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার আগতাড়াইল গ্রামের শামসুল আলম খানের মেয়ে। লালকুঠির ওই নিজস্ব বাসাতে বড় মেয়ে বিউটি, ছোট মেয়ে রোকসানা আলম খান রিতু, ছোট মেয়ের স্বামী রইচউদ্দিন ও নাতিসহ থাকতেন শামসুল আলম খান। নিহত বিউটি সহকারী এএসআই কামালের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার কোনো সন্তান নেই। থানা সুত্রে আরও জানা জায় ‘জমিজমা ও ফ্ল্যাটকেন্দ্রিক পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল এবং প্রাথমিকভাবে হত্যা হিসেবে ধরে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে’

তিনি বলেন, গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে গৃহপরিচারিকা বাসায় এসে দরজা খোলা দেখতে পায়। ভিতরে ঢুকে বাতি জ্বালিয়ে সে দেখে বিউটির হাত পা রশি দিয়ে বাঁধা,মুখে সাদা স্কচ টেপ লাগানো মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে থানা পুলিশে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। জানা যায়, মৃত বিউটি এএসআই কামালের প্রথম স্ত্রী। তার কোনো সন্তান নেই। দ্বিতীয় স্ত্রীও ঢাকায় থাকেন। তবে তার সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান কামাল। তিনি বলেন, ওই বিষয়ে না জানাই ভালো।
এই হত্যার ব্যাপারে স্বামী কামাল বলেন, ‘তার কোনো শত্রু আছে বলে আমার জানা নেই। তবে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বোনের সঙ্গে বিউটির একটু ঝামেলা চলছিল।’

দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেলিমুজ্জামান জানান, গত রাতে বিউটির হাত-পা বাঁধা, মুখে স্কচ টেপ লাগানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার স্বামী এএসআই কামাল মাগুরায় দায়িত্বরত ছিল। তিনিও মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকায় এসেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।