গাজীপুরের শ্রীপুর ও কালিয়াকৈরের দু’টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবীতে বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট করেছে। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছে।

মাওনা হাইওয়ে থানার এসআই হরিদাস, এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জানান, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকাস্থিত ইউনিয়ন গার্মেন্টস্ লিমিটেড কারখানায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কারখানার এসব শ্রমিকদের পাওনা বেতন ভাতা পরিশোধে গড়িমসি করছে। এতে শ্রমিকদের বিভিন্নজন তিন থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত বেতন ভাতা কর্তৃপক্ষের কাছে পাওনা রয়েছে। শ্রমিকরা তাদের পাওনাদি পরিশোধের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানালেও তা পরিশোধ করা হয়নি। একপর্যায়ে গত ২৭এপ্রিল শ্রমিকদের পাওনা বেতন ভাতা পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার (১৫ই মে) শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের ঘোষণা দেয়। ঘোষণা অনুযায়ী এদিন সকাল হতে শ্রমিকরা তালাবদ্ধ কারখানা এলাকায় অবস্থান নিয়ে পাওনাদির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষার পরও কারখানর কোন কর্মকর্তার দেখা না পেয়ে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার পার্শ্ববর্তী এমসি বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে অবরোধকারীদের সড়কের উপর থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় আধা ঘন্টা পর ওই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

এদিকে একইদিন কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকার হাইড্রোক্সাইড নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানার ছাটাইকৃত শ্রমিকরা তাদের বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের দাবীতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে।

শিল্প-পুলিশ গাজীপুর-২ এর ইন্সপেক্টর শহীদুল্লাহ ও কারখানার শ্রমিকরা জানান, গত ৪ এপ্রিল বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবীতে কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ হয়। এঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ ২ শতাধিক শ্রমিককে ছাটাই করে। এছাড়া ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করে আড়াইশতাধিক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে গত ২২ এপ্রিল বিজিএমইএ, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের এক যৌথ বৈঠকে শ্রম আইন অনুযায়ী ছাটাইকৃত শ্রমিকদের সমস্ত পাওনাদি মঙ্গলবার (১৫ মে) পরিশোধের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত দিন সকাল হতে ছাটাইকৃত শ্রমিকরা তাদের পাওনাদির জন্য কারখানার গেইটে এসে জড়ো হয়। এদিকে রাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ পূর্ব নির্ধারিত তারিখ (১৫ মে) পরিবর্তন করে আগামী ২১ মে তাদের পাওনাদি পরিশোধের ঘোষণা দিয়ে একটি নোটিশ কারখানা গেইটে টানিয়ে দেয়। সকালে শ্রমিকরা গেইটে এসে ওই নোটিশ দেখতে পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এসময় তারা পাওনা বেতন ভাতা পরিশেধের দাবীতে কারখানার গেইটের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষের কোন সাড়া না পেয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপর অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে এবং বিক্ষোভ করতে থাকে। এতে মহাসড়কের উভয়দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মহাসড়কের উপর থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।