আইফোন জব্দ করতে গিয়ে বসুন্ধরায় শুল্ক কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং মল থেকে অবৈধভাবে আমদানি করা আইফোন সেট উদ্ধার করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা এক শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে আটকে রাখেন এবং তাঁদের একটি গাড়িও আটকে রাখেন।শনিবার বিকেল পৌনে ৪টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের দোকান মালিক সমিতির নেতাদের বৈঠক হয়।

এর আগে আজ বেলা ১১টার দিকে বিপনিবিতানটিতে অভিযান শুরু করেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক গাজী মো. জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা।অভিযানে শপিং মলের বিভিন্ন দোকান থেকে ১০০টি আইফোন জব্দ করা হয়। এসব আইফোন অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হয়েছে বলে শুল্ক গোয়েন্দাদের দাবি।এর পরই অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বসুন্ধরা সিটির ব্যবসায়ীরা। এ সময় তাঁদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। মেহেদী নামের এক দোকানি জানান, অভিযানটি বেসরকারিভাবে পরিচালিত হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। কারণ অভিযানে পুলিশ সদস্যরা সঙ্গে ছিলেন না। শুধু র‌্যাব সদস্যরা ছিলেন। শুল্ক গোয়েন্দার এক সদস্যকে বসুন্ধরা সিটির ভেতরে আটকে রাখা হয়েছে বলেও জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, যে ফোনগুলো জব্দ করা হয়েছে তার বেশিরভাগই ক্রেতারা বিভিন্ন সমস্যার কারণে ঠিক করতে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া কিছু ফোন নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কেনা হয়েছে। তারপরও শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এসব আমলে না নিয়ে মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করে।রাসেল নামের আরেক বিক্রেতা জানান, এই মোবাইলগুলো বিমানবন্দর থেকে শুল্ক দিয়েই বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারপরও কেন হয়রানি, প্রশ্ন তোলেন তিনি।বিক্ষোভের সময় শুল্ক গোয়েন্দাদের বহন করা গাড়িটি আটকে রাখেন ব্যবসায়ীরা। পরে র‌্যাব সদস্যরা এসে গাড়িটি উদ্ধার করেন।এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিপেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের ঘটনা শুনে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।