নীলফামারীর জেলা জুড়ে টিসিবির কোনো পণ্য নেই !

নীলফামারীতে ২৫ জন ডিলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পন্য উত্তোলন করেনি। ওই পণ্য উত্তোলন করতে আগ্রহ নেই তাদের এর মধ্যে সদরের সাতটি, জলঢাকায় দুইটি, ডিমলায় তিনটি, কিশোরগঞ্জে সাতটি, ডোমারে চার ও সৈয়দপুরে দুইটি টিসিবির পণ্য পরিবেশক (ডিলার) রয়েছে। জেলা সদরের পণ্য পরিবেশক (ডিলার) অভি এন্টারপ্রাইজের পরিবেশক সত্যেন্দ্র নাথ রায় বলেন, টিসিবির পণ্যের দাম আর বর্তমান বাজারের পণ্যের দাম এক। তাই এতদিন পণ্য উত্তোলন করিনি!। তিনি বলেন, দুটি পয়শা লাভের জন্য ব্যবসা করি, সেটা না হলে কেন পণ্য উত্তোলন করব। এছাড়া, রংপুর থেকে নীলফামারীর দূরত্ব প্রায় ১১০ কিঃমিঃ। তাই যাতায়ত খরচও বেশী পড়ে যায়। তুলনামূলকভাবে একটু লাভ হলেই পণ্য উত্তোলন করব।

জেলা সদরের আব্দুল মান্নান ট্রের্ডাসের মালিক ও পরিবেশক রহুল আমিন চুন্নু বলেন, টিসিবির পণ্যের দামের সাথে বাজারের পণ্যের দাম এক। তাই টিসিবির পণ্য এনে কার কাছে বিক্রি করব। সাধারনভাবে মানুষ খোলা বাজারে পণ্য ক্রয় করতে সুবিধা মনে করেন। লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য নিয়ে আর্থিক সুবিধা না পেলে কেন ক্রেতারা ঝামেলা নিতে যাবে।
উপ-উর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা, মিশকাতুল আলম বলেন, গত বছর যেখানে ৮০ হাজার টাকায় পণ্য পাওয়া যেত। এবার সে জায়গায় প্রায় আড়াই লাখ টাকার দরকার। ফলে অনেক ডিলার পণ্য উত্তোলনে অনিহা প্রকাশ করছে। তবে আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।

রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় জানিয়েছেন, কিছু কিছু পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিকেজি খেজুর ১২০টাকা থেকে কমিয়ে ১০০টাকা, ছোলা ৭০ থেকে ৬৫ টাকা ও মশুর ডাল ৫৫ থেকে ৫০টাকায় আনা হয়েছে। জেলা প্রশাসক খালেদ রহীম বলেন, টিসিবির পণ্য, বাজারের পণ্যের সাথে দামের মিল থাকায় ডিলারদের অভিযোগ রয়েছে। যাতায়ত খরচসহ তাদের লোকশান গুনতে হয়। তারপরেও চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত টিসিবির মাধ্যমে জেলায় পণ্য বিক্রি শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন, নি¤œ আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে পণ্য সরবারহের জন্য সরকার টিসিবি কার্যক্রম শুরু করছেন।

মহিনুল ইসলাম সুজন,বিশেষ প্রতিনিধি ॥