মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা, টাইমস্কেল বঞ্চিত শিক্ষকদের পাশে দাড়ান

পাকিস্তানের নিপীড়ন বঞ্ছনার বৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিনের সংগ্রামের ফসল আমাদের মহান স্বাধীনতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আকাশ থেকে পাকা ফলের মত এসে পড়েনি। বাংলার অসীম সাহসী বীর সন্তানেরা স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়ে লড়াই করে ছিনিয়ে এনেছেন লাল-সবুজের পতাকা। এ স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে এদেশের ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে রাঙানো আমাদের স্বাধীনতার সূর্য। আজ আমরা স্বাধীন দেশে বসবাস করছি এবং প্রায় সবকিছুই পেয়েছি। বর্তমান বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশেও পরিনত হয়েছে। সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। শুধু বেসরকারী শিক্ষকদের সেভাবে হয়নি।

দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় দিয়ে জানাচ্ছি যে, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও ভুক্ত শিক্ষকগণ চাকুরীর পূর্ণ মেয়াদে সারাজীবনে মাত্র একটি টাইম স্কেল পেয়ে আসছেন। কিন্তু ২০১৫-এ জাতীয় বেতন স্কেল এর ঘোষনায় অনুচ্ছেদ ৪ ও ৬ অনুযায়ী ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৫ইং তারিখের পরবর্তী সময়ে বেসরকারী শিক্ষকদের টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর স্কেল বিলুপ্ত ঘোষনা হওয়ায় তা প্রদানের সুযোগ নেই বিধায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন করে কারও টাইম স্কেল দিচ্ছেন না।

বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ দেশের সমগ্র শিক্ষার ক্ষেত্রে ৯৭% অবদান রাখছেন এবং সমগ্র শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হচ্ছে তাতে বেসরকারী শিক্ষকদের অবদানকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় যে ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল এড্ওয়ার্ড পেলেন, এটা জাতির জন্য গর্বের। ঠিক তেমনি বেসরকারী শিক্ষকদের জন্যও গর্বের। আবার বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণ টঘঊঝঈঙ এর মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টান্যাশনাল রেজিষ্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, দেশ জুড়ে আনন্দের জোয়ার প্রবাহিত। এদিকে ২৭শে এপ্রিল, ২০১৮-এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অষ্ট্রেলিয়ার সিডনীতে নারী উন্নয়নে ও ক্ষমতায়নে অসামান্য স্বীকৃতি স্বরূপ আজীবন সম্মাননা “গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশীপ” এ্যাওয়ার্ড পেলেন এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের ঘটনায় দেশ ব্যাপী উৎসব চলছে। এতে জাতি গর্বিত ও আনন্দিত। এ আনন্দ জোয়ারের মধ্যেও বেসরকারী শিক্ষদের অতৃপ্তিতার বেদনায় ডুকরে ডুকরে তাদের মনপ্রাণ কাঁদছে। কারণ তাদের টাইম স্কেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এটা তাদের হাতের ভাত কেড়ে নেওয়ার মতো বলা যায়। এছাড়া প্রবৃদ্ধি নেই, বৈশাখী ভাতা নেই, সিলেকশন গ্রেড নেই আরও অনেক অনেক সুবিধা নেই, যা সরকারী শিক্ষদের আছে।

একই সাথে চাকুরীতে প্রবেশ করে একই যোগ্যতা ও একই অভিজ্ঞতায় কেউ পাচ্ছেন ১৬,০০০/- টাকা আবার কেউ পাচ্ছেন ২২,০০০/- টাকা এ যে কী ধরনের বেদনার, যন্ত্রণার ও পীড়াদায়ক তা কাউকে বোঝানো সম্ভব নয়। এটা ভুক্তভোগীরা ছাড়া অন্য কেউ বুঝবেনা। বেসরকারী শিক্ষকদের টাইম স্কেল তাদের বৈধ পাওনা, এটা তাদের কর্মের স্বীকৃতি, অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি এবং এটা তাদের জুনিয়র ও সিনিয়র নির্ধারণের মাপকাঠী।

এখানে যারা কর্মরত সকলেই সরকারের বিধি বিধান মেনেই নিয়োগ পেয়েছেন। এখানে যারা চাকুরী করছেন সকলেই সরকারের অনুগত। জাতীয় পর্যায়ে সরকারের সকল কাজেই তারা অংশগ্রহণ করতে কৃপণতা করেন না। জাতীয় নির্বাচন, স্থানীয় নির্বাচন, আঞ্চলিক নির্বাচন, জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য হালনাগাদ ভোটারের কাজ করা সহ সকল কর্ম সম্পাদন করতে সরকারের অনুগত হয়েই গুরুদায়িত্ব পালন করছেন।

আজ আমরা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছি কেন ? সরকারী কর্মচারীগণ ৫% প্রবৃদ্ধি পূর্ণাঙ্গ উৎসব বোনাস, পূর্ণাঙ্গ বাড়ী ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা, ধোলাই ভাতা, শিক্ষা ভাতা, টিফিন ভাতা ও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। অপরদিকে একই সিলেবাস বই পাঠদান করিয়ে হাজার হাজার শিক্ষক দু:শ্চিন্তাগ্রস্থ, হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। আর্থিক অনটনে ভুগছেন। টাইম স্কেল ছিল একটি মিমাংসিত বিষয়। এটা দীর্ঘদিন থেকে প্রচলিত নিয়মানুযায়ী পেয়ে আসছিল। সেটা কেন বন্ধ করা হল ? বেসরকারী শিক্ষকদের চাকুরীর পূর্ণ মেয়াদে সারা জীবনে ৮ বছর পর পূর্ণ হলে মাত্র ১টি টাইম স্কেল পেতো তাও আবার বন্ধ করা হলো কেন ? তাদের অপরাধ কী ? তারা কী চাকুরীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই স্কেলে বেতন পাবে ? সারাজীবন চাকুরী করে একই স্কেলে চাকুরী থেকে বিদায় নিবে ? তাহলে অভিজ্ঞতা ও মুল্যায়ন কোথায় ? বিদ্যালয় ও কমিটির জটিলতার কারণে বহু প্রতিষ্ঠানে এমপিও হতে ১০/১২ বছর সময় লেগেছে, বি.এড করার অনুমতি পেতে আরো কয়েক বছর সময় লেগেছে। এরপর টাইম স্কেল পেতে আরও ৮ বছর পর অপেক্ষা করতে হয়। তাহলে অনেক শিক্ষক ২৭/২৮ বছর চাকুরীর পর যদি টাইম স্কেলটি না পায় তাহলে তিনি যাবেন কোথায় ? এখন তো সেটাও বন্ধ। তাহলে সমস্যার সমাধান কোথায় ?

আজ বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের বর্তমানে যিনি অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিনীত আবেদন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করে হাজার হাজার টাইম স্কেল বঞ্চিত শিক্ষক পরিবারবর্গের দু:খের গ্লানির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ একান্ত ভাবে কামনা করছি।

এমপিওভুক্ত বেসরকারী শিক্ষকদের পক্ষে- মুহাম্মদ আবদুল হক