৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ভাসছে মিরপুর : চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় রাজধানীবাসীকে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।বুধবার সকালে বৃষ্টির কারণে মিরপুর ১০ হতে ফার্মগেটমুখী সড়ক, কারওয়ান বাজার সংলগ্ন বিভিন্ন রাস্তাসহ নিচু এলাকায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে। এতে করে যান চলাচল কমে যায়। এই সময় ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয় মানুষকে।রাজধানীর কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ডে একজন যাত্রী জানান, তিনি বেলা সকাল ১১টা থেকে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে দুটি বাসের দেখা যান। তখন কিছু মানুষ বাসে উঠে বসে। তবে ওই বাস কিছু দূর যাওয়ার পরই বন্ধ হয়ে যায় বৃষ্টির পানি ইঞ্জিনে ঢোকার কারণে।কিছু মানুষকে ভ্যানে করে পানি পার হওয়ার বা গন্তব্যে পোঁছানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে ভ্যানচালকরাও সুযোগ বুঝে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অনেকে।কাজীপাড়ায় মুনমুন নাহার বলেন, ‘কিছু করার নেই। আগারগাঁও তো পোঁছাতে হবে। ভাড়া যা যায় যাক।এদিকে আগারগাঁও পার হয়ে চন্দ্রিমা উদ্যান অর্থাৎ বিজয় সরণি এসে রাস্তায় বেশ যানজট দেখা গেছে। শেওড়াপাড়ায় পানি জমে আছে রাস্তায়। মানুষকে যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।মিরপুর লিংক বাসের চালক আবু সাইদ বলেন, মিরপুর ১০ থেকে কাজীপাড়া পর্যন্ত রাস্তা ভরা পানি। ১০ থেকে বাসগুলো মিরপুর ১ হয়ে বিভিন্ন দিকে যাচ্ছে। এত পানির ভেতরে গাড়ি চালালে বন্ধ হয়ে যায়। এই জন্য ঝামেলা এড়াতে অনেকেই আসতে চাই না।

কাজীপাড়াতে শফিকুল ইসলাম নামের একজন বলেন, ‘যাব ফার্মগেট। বহু সময় দাঁড়িয়ে আছি, বাস নেই। এদিকে রিকশাওয়ালা চায় ১৫০ টাকা। এত টাকা দিয়ে বেকার মানুষ কীভাবে যাই বলুন?বুধবার ঢাকায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। প্রচ- গরমে এ বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও রাস্তার জলাবদ্ধতা পথচারী ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বৃষ্টিতে মিরপুরসহ আশপাশের এলাকা তলিয়ে গেছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জমে যায় হাঁটু থেকে কোমর পানি। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পাঁচ মিনিটের পথ যেতে লাগে দুই ঘণ্টা। দুপুরের পর থেকে রাজধানীর প্রায় সর্বত্রই ছিল যানজট।আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঢাকায় ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া খুলনা, চট্টগ্রামেও সকালে বৃষ্টি হয়েছে। তবে ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল বেশি। এছাড়া সকালে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ ছিল। বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।আগামী তিনদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও জানান তিনি।সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর শেওড়াপাড়া থেকে ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত পুরো রাস্তায় হাঁটু পানি। মেট্রোরেলের চলমান কাজের কারণে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে মিরপুরের প্রধান সড়ক খালে পরিণত হয়েছে।

এদিকে মিরপুরের কালশীতে সাংবাদিক পল্লীর সামনের রাস্তাঘেঁষে খাল থাকলেও তাতে কাজ হয়নি। বৃষ্টির তিন ঘণ্টা পরও কালশী সড়কে ছিল হাঁটু পানি। সাংবাদিক পল্লী ও আশপাশের আবাসিক এলাকায় ছিল থইথই পানি। বেনারসি পল্লী এবং পল্লবী সড়কেরও ছিল একই দশা। ১০ নম্বর মোড় থেকে বনানী, ক্যান্টনমেন্ট অভিমুখী সড়কও তলিয়ে যায়।সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি স্কুলের গেটে ছিল কোমর পানি। ছুটির পর শিক্ষার্থীরা পানি ভেঙে বাড়ি ফেরে। একই অবস্থা বিআরটিএ ও ইউনানী মেডিকেল কলেজের সামনেও। বাসসহ অন্যান্য পরিবহনের যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল আরও বেশি। রাস্তা থেকে প্রায় আড়াই ফুট উঁচু ফুটপাত পর্যন্ত তলিয়ে যায় পানিতে। তাই হেঁটে চলার উপায়ও ছিল না। রাস্তায় প্রচ- যানজট থাকলেও যান সংকটের কারণে শত শত মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।বৃষ্টিতে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর ও আশপাশের এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সেখানে রিকশা ও রিকশাভ্যানের চাকা পর্যন্ত ডুবে যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশার ভেতরে পানি ঢুকে অনেক গাড়ি বিকলও হয়ে পড়ে।মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনের রাহান আল রশিদ আরটিভি অনলাইনকে জানায়, ১৩ নম্বর সেকশনে বেলা দুইটার দিকে তাদের স্কুলের সামনে ছিল হাঁটুর ওপরে পানি। বৃষ্টি হলেই মিরপুরে পানি ওঠে যায়। পানি যেন মিরপুরবাসীর নিত্যসঙ্গী।মিরপুর ১২ নম্বরে নিপুণ সরকার। তিনি বলেন, গাড়িতে বসে থাকতে থাকতে কোমর ব্যথা হয়ে গেছে। নিচে পানি তাই হাটতে পারছিলাম না। প্রতিদিন এমন কষ্ট সহ্য হয় না।মিরপুর রুটে মোটর সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন মাজহারুল হক। তার পুরো পা হাঁটু অবধি ভিজে গেছে। তিনি আরটিভি অনলাইনকে জানান, পুরো রাস্তা পানি জমে আছে। অনেক কষ্টে কাজীপাড়া পর্যন্ত এসেছি। রাস্তা ভাঙ্গাচুরা, দুই পাশে মেট্রোরেলের কাজ। নিচে পানি, ডানে গাড়ি বায়ে গাড়ি। সবকিছু নিয়ে মহামারি অবস্থা। জানি না এ দুর্ভোগ কবে শেষ হবে।হিমাচল পরিবহনের চালক লিয়াকত জানালেন, শেওড়াপাড়া থেকে ১০ নম্বর যেতে সময় লেগেছে সোয়া দুই ঘণ্টা। স্বাভাবিক সময়ে ১০ মিনিটও লাগে না। ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করায় রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে বেশ ক’টি প্রাইভেট কার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এতে যানজট আরও বাড়ে। কাজীপাড়ায় জলাবদ্ধতা ছিল সবচেয়ে বেশি।বৃষ্টিতে প্রগতি সরণি, শাহজাদপুর, বনানী, উত্তর বাড্ডা, ফকিরাপুল, শান্তিনগর, ভুতের গলি, ধানমন্ডির বেশ কিছু এলাকায়ও পানি জমে। এতে প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। শাহজাদপুরে রাস্তা অনেক দিন ধরে রয়েছে খোঁড়া অবস্থায়। পানি জমে থাকার কারণে গতকাল সেখানে গাড়ি উল্টে পড়ার ঘটনাও ঘটে।