১২ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব অর্থনীতি সমিতির

আগামী অর্থবছরের জন্য ১২ লাখ কোটি টাকার একটি বাজেটের পরিকল্পনা হাজির করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, যা বর্তমান অর্থবছরের বাজেটের তিন গুণ।বিশাল এই বাজেটের পরিকল্পনা দিয়ে অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারকাত বলেছেন, আমাদের প্রস্তাবিত বাজেট যুক্তিসঙ্গত এবং দেশের অন্তর্নিহিত শক্তির বিচারে যৌক্তিক।বাংলাদেশের চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ৪ লাখ কোটি টাকার, যাও উচ্চাভিলাষী বলে সমালোচনা রয়েছে।

আগামী জুনে যে বাজেট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দিতে যাচ্ছেন, তা ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি।নতুন অর্থবছরের বাজেট সংসদে ওঠার আগে শনিবার বিকল্প বাজেট নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আসে অর্থনীতি সমিতি।এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক বারকাত। কোনো ধরনের বৈদেশিক ঋণ ছাড়াই এ বাজেট বাস্তবায়নের আকাঙ্খা প্রকাশ করেন তিনি।আমাদের প্রস্তাবিত বিকল্প বাজেটে বৈদেশিক ঋণের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

বারকাত বলেন,আমাদের বিকল্প বাজেটের ৮১ শতাংশ বা ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮২০ কোটি টাকার জোগান দেওয়া হবে রাজস্ব আয় থেকে।চলতি অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা; যা আদায় করাও চ্যালেঞ্জ মনে করছিলেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।অর্থনীতি সমিতি প্রস্তাবিত বাজেটের ১৯ শতাংশ বা ২ লাখ ২৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার ঘাটতির ১ লাখ কোটি টাকা বা ৪৪ শতাংশ অর্থ সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব থেকে আনার পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।তারা বলছেন, বন্ড বাজার থেকে আসবে ঘাটতি বাজেটের ২১ শতাংশ বা ৪৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ৬০ হাজার কোটি টাকা বা ২৭ শতাংশ এবং দেশীয় ব্যাংক ঋণ থেকে নেওয়া হবে ৯ শতাংশ বা ২০ হাজার কোটি টাকা। দেশের অর্থনীতির অন্তর্নিহিত শক্তির বিচারে প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদেশিক ঋণের প্রয়োজন গ্রহণ না করে পরিশোধ এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে ২২টি নতুন উৎসের সন্ধান দিয়েছে অর্থনীতি সমিতি।এতে জানানো হয়, অর্থপাচার রোধ থেকে আহরণ, কালোটাকা থেকে আহরণ, বিদেশি নাগরিকের ওপর কর, বন্ড মার্কেট, সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব, সেবা প্রাপ্তির কর, সম্পদ কর, বিমান ভ্রমণ কর, তার ও টেলিফোন বোর্ড, টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, ইন্সুরেন্স রেগুলেটরি কমিশন, বিআইডব্লিউটিএ, বেসরকারি হাসপাতাল নবায়ন ফি, সরকারি স্টেশনারি বিক্রয়, পৌর হোল্ডিং কর ইত্যাদি বাজেটে রাজস্ব আয় বাড়াতে পারে। এসব খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতে পারে ১লাখ ৪০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত বলেন, সম্পদ কর থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা, অর্থপাচার রোধ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ও কালোটাকা উদ্ধার থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ঘাটতি অর্থায়নের বন্ড মার্কেট ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নতুন উৎস থেকে ১লাখ ৪৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। যা মোট রাজস্ব প্রাপ্তির ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

অর্থনীতি সমিতির বাজেট প্রস্তাবে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে, ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৮১ শতাংশ যোগান দেবে রাজস্ব খাত। বাকি ১৯ শতাংশ অর্থাৎ ঘাটতি অর্থায়নের (১ লাখ ২৫ হাজার ৫৮০ কোটি) যোগান দেবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব খাত। ৪৫ হাজার কোটি টাক আসবে বন্ড মার্কেট থেকে, ৬০ হাজার কোটি টাকা আসবে সঞ্চয়পত্র থেকে ও দেশীয় ব্যাংক থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা। এভাবে অর্থসংগ্রহ করতে পারলে ঘাটতি র্অর্থায়নে কোন বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করতে হবে না। গত অর্থবছরে ঘাটতি পূরণে ৪৩ শতাংশ গ্রহণ করতে হয়েছিল। বাজেট প্রস্তাবনায় শিক্ষা ও প্রযক্তি, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ, বিদ্যুত ও জ্বালানি, পরিবহন ও যোগাযোগ, ও বৈদেশিক ঋণের সুদাসল পরিশোধ বাবদ ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। অনুষ্ঠানে সমিতির অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।