গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঃ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা বন্ধ থাকলেও প্রতিদিনই কৌশলে নীরব প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা

* নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যসহ কেন্দ্রী নেতারা ॥ *আ.লীগ ও বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী মঙ্গলবার একই এলাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন ॥

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা বন্ধ থাকলেও কৌশলে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রতিদিনই নীরব প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীরা। মুলতঃ ইফতার মাহফিল ও মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিদ্যালয় কেন্দ্রিক প্রচার-প্রচারণার তৎপরতায় রয়েছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপি’র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তাদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যসহ উভয় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। প্রতিদিনই তারা দোয়া ও ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে গণংযোগ করতে বিভিন্ন অনুষ্ঠাণে যোগ দিতে ছুটে যাচ্ছেন সিটি কর্পোরেশনের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে। নানা কৌশলে তারা পুরো নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন এবং নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। তারা ভোটারদের খোঁজে যাচ্ছেন বাড়ি, অফিস ও মিল কারখানায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছেন। নিজ দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রতিদিনই তারা ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও গণসংযোগ করে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে বসে নেই অন্য প্রার্থীরাও। নির্বাচনের আনুষ্ঠাণিক প্রচার প্রচারণা আগামী ১৮জুন হতে শুরুর কথা থাকলেও প্রায় সকল প্রার্থীই তাদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছেন।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে হেভিওয়েট দুই প্রার্থী আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা) ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের (ধানের শীষ) মধ্যে। সবার দৃষ্টিই এখন এ দু’প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমের দিকে। মঙ্গলবার আওয়ামীলীগ ও বিএনপি মনোনীত এ দুই মেয়র প্রার্থী তাদের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রায় একই সময় একই এলাকায় অনুষ্ঠিত পৃথক অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে ভোট প্রার্থনা করেছেন।

মঙ্গলবার ১৪ দলীয় জোট সমর্থিত আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী (নৌকা) অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মহানগরের ছয়দানা এলাকাস্থিত বাসায় সকালে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করেন। পরে তিনি মহানগরের ৮, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত কয়েকটি পৃথক আলোচনা সভা এবং দোয়া ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক বিকেলে মহানগরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণাতলা পারিজাত প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা এবং দোয়া ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। একই অনুষ্ঠাণে যোগ দেন মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। শেখ মোঃ আক্কাছ আলীর সভাপতিত্বে ও আব্দুর রহমান মাষ্টারের সঞ্চালনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল একইদিন বিকেলে মহানগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাথোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। পরে তিনি ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউলতিয়া জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৃথক অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা এবং দোয়া ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। একই অনুষ্ঠাণেও যোগ দেন মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। মোঃ আতাউল্লাহ মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠাণে গাজীপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, তাঁতি লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এসময় সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনর সাবেক সহ সভাপতি এ্যাড. শফিকুল ইসলাম বাবুল, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোঃ বিল্লাল হোসেন, এস এম মোকছেদ আলম, মোঃ আসাদুল্লাহ চেয়ারম্যান, তথ্য ও মোঃ খালেকুজ্জামান মোঃ মাজহারুল ইসলামসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, একইদিন (মঙ্গলবার) প্রায় একই সময়ে একই এলাকা কাউলতিয়ার পোড়াবাড়ি জামে মসজিদ ময়দানে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে যোগ দেন ২০ দলীয় জোট সমর্থিত বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী (ধানের শীষ) হাসান উদ্দিন সরকার। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা অধ্যাপক এম.এ মান্নানের সুস্থতা কামনায় এ দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার অলোচনা সভায় বলেন, কারা নির্যাতিত মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে বংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে উন্নয়নের জন্য বর্তমান মেয়র মান্নান বিশাল উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়ে ছিলেন। কিন্তু তাকে এই বিশাল উন্নয়ন যজ্ঞের টেন্ডার বাস্তবায়ন করতে দেয়া হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে মেয়র মান্নানের অসমাপ্ত কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করবো। নগরির উন্নয়নে মেয়র মান্নানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠাণে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক সোহরাব হোসেন, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন সেলিম, জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদ খান, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি কুতুব উদ্দিন চেয়ারম্যান, আব্দুল খালেক ডিলার, কাউন্সিলর তানভীর আহমেদসহ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থনে টঙ্গীর ৫০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত অপর এক ইফতার মাহফিল স্থানীয় গাজীপুরা ইদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে ও এজিএস সাজেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠাণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার। টঙ্গী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম শুক্কুর ও জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন আহমেদসহ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের পুন:ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী আগামী ২৬ জুন দেশের বৃহত্তম গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন।