১৪ জুনের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশ

আগামী ১৪ জুনের মধ্যে তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের শ্রমিকদের মে মাসের বেতন ও রোজার ঈদের ভাতা (বোনাস) পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।সচিবালয়ে মঙ্গলবার গার্মেন্টসের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটির সভা শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ১০ জুনের মধ্যে মে মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে। ঈদের আগে পর্যায়ক্রমে পোশাক শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হবে। আর ছুটির আগে বা ১৪ জুনের মধ্যে অবশ্যই উৎসব ভাতা পরিশোধ করতে হবে।”চাঁদ দেখাসাপেে আগামী ১৬ বা ১৭ জুন রোজার ঈদ হবে।শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদটা যেন শ্রমিকরা আনন্দঘন পরিবেশে করতে পারে সেজন্য আমরা বিভিন্ন শিল্প সেক্টরের মালিক সমিতির সদস্যদের বলেছি মে মাসের বেতনটা যাতে ঠিকভাবে দিয়ে দেন, কোনো ল্যাকিংস না থাকে। যেসব মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিল্প কারখানা আছে তাদেরকেও সময়মত শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান চুন্নু।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিটিং করে অঞ্চলভিত্তিক ছুটির ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন। যে অঞ্চলে আগে ছুটি দেওয়া হবে, সেই অঞ্চলে যাতে আগেই উৎসব ভাতা দেওয়া হয়।ঈদে শ্রমিকরা যাতে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পারে সে বিষয়টিও এবার খেয়াল রাখা হবে বলে জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী।ভাঙাচোরা গাড়ি ও ট্রাকে বাড়ি ফেরার সময় অনেক শ্রমিক মারা যান। আমরা হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের বলেছি, তারা যাতে এটা খেয়াল রাখেন।ঈদের সময় ঝামেলা হতে পারে এমন শিল্প কারখানার তালিকা আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী দিয়েছে কি না- এই প্রশ্নে চুন্নু বলেন, “হ্যাঁ, আমাদের লিস্ট দিয়েছে, আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী আপডেটেড।একটা শিল্প সেক্টরে হাজার হাজার ফ্যাক্টরি, কিছুটা তো সমস্যা থাকতেই পারে। যার অবস্থা ভাল না এ রকম মালিকের বউয়ের অলংকার বিক্রি করে, ফ্যাক্টরির মেশিন বিক্রি করে, জায়গা বিক্রি করেও আমরা বেতনের ব্যবস্থা করেছি। এটা আমরা মনিটর করি, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ মনিটর করে।শ্রমঘন এলাকায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের একটি টিম কাজ করে জানিয়ে চুন্নু বলেন,সমস্যা হলে তারা উদ্যোগ নেয়, প্রবলেম হয় না, হলেও আমরা ফেস করি। তারপরেও হতে পারে, সেটা খুব মাইনর। সরকার ও মালিক পরে চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।

বিজিএমইএ এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স-এর সভাপতি রায় রমেশ চন্দ্র, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি ছাড়াও বিকেএমইএ, বিটিএমএ এবং আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।