আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গড় মুনাফা ২৯ কোটি টাকা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত লিজিং কোম্পানিগুলোর ২০১৭ সালের ব্যবসায় ৬৩৩ কোটি টাকার নিট মুনাফা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর গড় মুনাফা হয়েছে ২৯ কোটি টাকা। যা গড় শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস) হিসাবে হয়েছে ১.৩৫ টাকা।লিজিং কোম্পানিগুলোর ২০১৭ সালের (সমন্বিত) আর্থিক হিসাব থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে পিপলস লিজিং এ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।কারণ কোম্পানিটির এখনও ২০১৭ সালের শেষ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।

দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত লিজিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের। ১৮৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৯৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিংয়ের।অপরদিকে চলতি বছরের ৯ মাসে লোকসান করে সবার তলানিতে রয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)। প্রতিষ্ঠানটির ৯৪ কোটি ৪ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এরপরে ৯৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা লোকসান নিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফ খান বলেন, আর্থিক খাতের গড় নন-পারফরমিং লোন (এনপিএল) ১০ শতাংশ। এক্ষেত্রে আইডিএলসির আছে মাত্র ২.৮৩ শতাংশ। যা আইডিএলসির মুনাফার উত্থানে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া আইডিএলসিতে দক্ষ জনবল ও আয়ের তুলনায় খরচ কম হওয়াও মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, এই খাতে অনেকে ব্যবসায় ভালো করছে, আবার অনেকে খারাপ করছে। এর মধ্যে কিছু কোম্পানির এনপিএল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া তারল্য সংকটও দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় ২০১৮ সাল আর্থিক খাতের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে এই চ্যালেঞ্জিংয়ের মধ্যে আইডিএলসি অন্যদের তুলনায় ভাল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।এদিকে সবচেয়ে কম মুনাফা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের। এ সময় কোম্পানিটির ১২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে। আর ১৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা নিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন প্রিমিয়ার লিজিংয়ের ও ১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা নিয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন মুনাফা হয়েছে ফাস ফাইন্যান্সের।এদিকে মুনাফায় আইডিএলসি ফাইন্যান্স সবার উপরে থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ইপিএসে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিংয়ের সবচেয়ে বেশি মুনাফা হয়েছে। কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭.৭৯ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা উত্তরা ফাইন্যান্সের ইপিএস হয়েছে ৭.২৫ টাকা।

তালিকাভুক্ত ২১টি লিজিং কোম্পানির মোট ৩ হাজার ৬৮৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এর মধ্যে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। কোম্পানিটির ৫১৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এরপরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭৭ কোটি ৫ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের। এদিকে মুনাফায় আইডিএলসি ফাইন্যান্স সবার উপরে থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ইপিএসে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিংয়ের সবচেয়ে বেশি মুনাফা হয়েছে।কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭.৭৯ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা উত্তরা ফাইন্যান্সের ইপিএস হয়েছে ৭.২৫ টাকা।অপরদিকে সবচেয়ে কম ১০০ কোটি ৬৮ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে বিআইএফসি লোকসানের মাধ্যমে সবার তলানিতে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৯৪ কোটি ৪ লাখ টাকা লোকসান নিয়ে সর্বোচ্চ লোকসানের তালিকায় অবস্থান করছে। এরপরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ১০৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে মুনাফায় দশম অবস্থানে রয়েছে ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স।এছাড়া তৃতীয় সর্বনিম্ন ১১৬ কোটি ২ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে লোকসানের চতুর্থ সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ফার্স্ট ফাইন্যান্স।উল্লেখ্য, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) শেয়ারবাজরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং খাতে তালিকাভুক্ত হলেও কোম্পানিটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম মূলত শেয়ার ব্যবসায়। এক্ষেত্রে আইসিবিতে অনেকাংশেই লিজিং কোম্পানির বৈশিষ্ট্য নেই।