মৃত্যু নবজাতকের দাফন না দিয়ে রাতের অন্ধকারে ফেলে দিলো নানু

কি দোষ ছিলো সেই মৃত্যু নবজাতকের! এম্বুলেন্স মৃত সন্তান জন্ম হওয়ায় দাফন না দিয়ে রাতের অন্ধকারে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিলেন তার নানু। কি ছিলো সেই শিশুটির পাপ! জন্ম নাকি মৃত্যু। আর কেনই বা শিশুটির নানু তাকে দাফন না দিয়ে কোন ভয়ে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিলো। কে দিবে এর উত্তর, তা কারও জানা নেই। এ যেন আদিম যুগের সেই নিষ্ঠুর বর্বরতাকেও হার মানাচ্ছে। এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়া এলাকাজুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যকর অবস্থা।

আর এই নিষ্ঠুর অমানুবিক ঘটনাটি ঘটেছিলো উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায়। গত রোববার সকালে উপজেলার মেডিকেলের মেইন ফটকের কাজ থেকে মরদেহটি উদ্ধার সেই নবজাতকের পরিচয় মিলেছে। ঘটনার পর থেকে সেই নবজাতকের নানু সনে আলী পলাতক রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।

এলাবাসী জানান, ঐ উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের আদর্শ গ্রাম এলাকার সনে আলী মেয়ে (২০) গত শনিবার রাত ১টায় প্রসব বেদনা উঠলে তাকে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়। সেসময় মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুগী অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরে সে রোগী নিয়ে মাইক্রোযোগে রংপুর যাওয়ার পথে মেডিকেল মোড়ের উত্তরে রেল গেটের এলাকায় মাইক্রোবাসের ভিতরে মৃত সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। পরে মেয়ের শশুর মৃত সন্তানকে বেয়াই সনে আলীকে দিয়ে বলেন যে, তাকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে দাফন করতে। কিন্তু সনে আলী সেই মৃত সন্তানটিকে হাতীবান্ধা মেডিকেলের মেইন ফটকের কাছে রেখে পালিয়ে যান। ওই রাতেই অসুস্থ অবস্থার সনে আলীর মেয়েকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান হয়। পরদিন সকালে স্থানীয় লোকেরা শিশুটিকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে থানায় খরব দেন। পুলিশ এসে নবজাতকটি উদ্ধারের পর সনে আলী গা ঢাকা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য ঐ সনে আলী তার মেয়েকে ৩ বছর আগে পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নে বিবাহ দেন। মাইক্রোবাসের ড্রাইভার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার গাড়িতে মৃত সন্তান প্রসব করেছে পরে কি হয়েছে তা আমি জানিনা। আমি রুগী নিয়ে রংপুরে আসি। হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক এস আই আব্দুল গণি বলেন, ইউডি মামলা মাধ্যমে ওই নবজাতকের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।