শতবর্ষে পা রাখলো ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ

সময়ের পরিক্রমা কখনোই থেমে থাকেনা। তাইতো দিনের পর মাস, মাস শেষে বছর এভাবেই এক সময় পূর্ণ হয় শত বছর। আজ শুক্রবার ১লা জুন,২০১৮ প্রভাতলগ্নে এরকমই এক ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে গেল দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ । আজ পূর্ণ হওয়া শতবর্ষী এ কলেজটি দেশ কিংবা বিদেশ সব জায়গাতেই সৃজনশীল মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে অবদান রেখে চলেছে। সবার চিরচেনা এ ক্যাম্পাসটি অধিক পরিচিত ‘রাজেন্দ্র কলেজ’ নামে।

এরই ধারাবাহিকতায় শত বছর পূর্ণ হওয়ার আবেগ অনুভূতিকে প্রকাশ করতে পুরনো ও নবীণ ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে খোলা হয়েছে একটি জনপ্রিয় ফেসবুক গ্র“প । যার নাম দেওয়া হয়েছে (শতবর্ষী রাজেন্দ্র কলেজ : আমার ভালোবাসা)। আর এখানে ঢুঁ মারলেই চোঁখে পড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা স্মৃতিবিজড়িত এক অন্যরকম আবেগ ও ভালোবাসা। শাহীন হায়দার নামে অন্য এক ছাত্র তাঁর অভিব্যক্তিতে বলেন, ইতিহাসের পাতায় স্থান করে আজ তিন অংকের ঘরে (১০০) পৌঁছালো আমাদের প্রিয় জ্ঞানের তীর্থস্থান, দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম বিদ্যাপিঠ, শতবর্ষী রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। কালের স্বাক্ষী হয়ে এক প্রজন্মের সাথে অন্য প্রজন্মের সেতুবন্ধন রচনা করে চলেছে গত ৮ যুগেরও বেশী সময় ধরে। আমি এ কলেজটির ছাত্র হতে পেরে আজ গর্বিত।স্মৃতিকে আঁকড়ে রাখা এ কলেজেরই ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রিজভী জামান তাঁর অভিব্যক্তিতে বলেন, রাজেন্দ্র কলেজ হচ্ছে আমার জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। যেখানে আমার স্মৃতি বিজড়িত বিশটি বছর জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ধূলিকণা, প্রতিটি ইট-ই আমার পরিচিত। তিনি আরো বলেন, আমার বিশ বছরের শিক্ষকতায় কলেজটির এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আমার স্পর্শ নেই। রোবার স্কাউট বলেন, সাংস্কৃতি বলেন প্রতিটি কাজেই রয়েছে আমার মমতাময়ী ভালোবাসা। রাজেন্দ্র কলেজ আজ শতবর্ষে পূর্ণ হয়েছে জেনে খুব ভালোলাগা কাজ করছে।

কলেজটির বর্তমানে কর্মরত থাকা অধ্যক্ষ ও লেখক প্রফেসর মোর্শারফ আলী তাঁর অভিব্যক্তিতে বলেন, বাংলাদেশের শীর্ষে থাকা ষোলটি কলেজের মধ্যে রাজেন্দ্র কলেজ একটি। অন্যদিকে একটা জাতিকে উন্নতির স্বর্ণ শিকড়ে পৌঁছে দিতে এ কলেজটি বিরাট অবদান রেখে চলেছে। আজ শতবর্ষীতে কলেজটির ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে পেরে বড় ভালো লাগা কাজ করছে।ইতিহাস ঘেঁটে ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ফরিদপুরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় । কেননা এ সময় ফরিদপুর জেলায় ৩৫টি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে ।ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করা শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করতে ফরিদপুর শহরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি উপাস্থাপিত হয় । কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ হন । অতঃপর ফরিদপুরে কলেজ প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন জেলার বিখ্যাত আইনজীবি এবং প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা (অবিভক্ত কংগ্রেসের সভাপতি) অম্বিকাচরণ মজুমদার । পরে ১৯১৮ সালের ১লা জুন ৫৪.১ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠে দক্ষিণ বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এ বিদ্যাপীঠটি।