উৎস বন্ধ না হলে মাদক নির্মূল দুরূহ: সিএমপি কমিশনার

মাদকের উৎস মুখ বন্ধ না করলে চলমান অভিযানে সফলতা আসবে না বলে মানবাধিকারকর্মীদের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেল এক পুলিশ কর্মকর্তার মুখ থেকে।চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার কবিগুরুর ‘জুতা আবিষ্কার’ কবিতাটি উদ্ধৃত করে বলেছেন, চরণ ঢাকব, না ধরণী ঢাকব।

এখন যেখান থেকে উৎস, সেই উৎস মুখ যদি বন্ধ না হয়, তাহলে মাদককে নির্মূল করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার।শনিবার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কার্যালয়ে জব্দ করা মাদক ধংসের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা বলেন ইকবাল বাহার।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরুর পর দুই সপ্তাহে শতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অভিযান চালানোর সময় গোলাগুলিতে কিংবা মাদক বিক্রেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাদের মৃত্যু ঘটেছে।তবে মানবাধিকারকর্মীরা এই মৃত্যুগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, মাদকের উৎস বন্ধ না করে এভাবে ‘বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-’ ঘটিয়ে অভিযানের সফলতা আসবে না।অভিযানে পূর্ণ সফলতার জন্য উৎস মুখ বন্ধের উপর জোর দিয়ে সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, “কারণ ১০টি জায়গা দিয়ে হয়ত এই মাদকটি আসে। এটি ১০ হাজার বা ৫০ হাজার জায়গায় ছড়িয়ে যাচ্ছে। ৫০ হাজার জায়গায় ৫০ হাজার মানুষকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত দুরূহ।এ কারণে আমরা উৎস মুখটাকে যদি বন্ধ করতে পারি, তাহলে কিন্তু মাদককে নির্মূল করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

বাংলাদেশে বর্তমানে মাদকের মধ্যে ইয়াবা ট্যাবলেটের কথাই সবার আগে আসে। এই ইয়াবা আসে মূলত মিয়ানমার থেকে।ইয়াবা পাচার বন্ধে মিয়ানমার সরকারের সহায়তা চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিন দিন আগেই জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।সিএমপি কমিশনার মাদক নির্মূলে সমাজের সব স্তরের মানুষের একযোগে কাজ করার উপর জোর দেন।তিনি বলেন, সবাই যদি একাট্টা হয়ে চেষ্টা করি, তাহলে এ জাতিকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব।

চলমান অভিযান সফল করতে সিএমপির পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন ইকবাল বাহার।তিনি বলেন, কয়েকটি ধাপে তারা কাজ করছেন। মানুষকে সচেতন করে পাড়া-মহল্লায় মাদক বিরোধী কমিটি করা। স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে মাদক সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করছেন তারা।চট্টগ্রাম নগরীতে ‘১৪৫টি মাদকের স্পটের’ অধিকাংশ বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করে তিনি বলেন, এগুলো যেন পুনরায় কেউ ব্যবহার করতে না পারে এবং আড্ডা হিসেবে ব্যবহৃত হতে না পারে সেজন্য পুলিশ সর্বোতভাবে চেষ্টা করবে।মাদকের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অনেকের জড়িয়ে পড়ার যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে ইকবাল বাহার বলেন, “গত বছর আমার আটজন সদস্যকে আমি চাকরিচ্যুত করেছি, জেলে দিয়েছি। আমি মনে করি, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। সেকারণে আমার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যরও যদি সংশ্লিষ্টতা থাকে, তাহলে তাকেও কিন্তু আইনে সোপর্দ করা হবে। এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।অনুষ্ঠানে ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ইয়াবা এবং নয় কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা ধংস করা হয়।এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার বলেন, এটি আমাদের রুটিন একটি কাজ। পুলিশ যেসমস্ত মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে আদালতের নির্দেশক্রমে সামান্য কিছু আলামত রেখে এটি ধ্বংস করা হয়।এরকম আরও ১৫ লাখ ইয়াবা সিএমপির মালখানায় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতের আদেশ প্রক্রিয়াধীন আছে। এটি আসলে এভাবে ধ্বংস করব।