ভোলায় এক মাসে ঝড়ে গেল ২১ প্রাণ

ভোলায় চলতি বছরের মে মাস জুড়ে একের পর এক ঘটেছে ডাবল মার্ডার, নিসংস হত্যাকা-, আত্মহত্যা, কু-প্রস্তাবে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো ঘটনায় নিহত হয়েছে ২১ জন। যার মধ্যে চাঞ্চল্যকর ডাবল মার্ডার ও এনজিও টাকা তুলতে গিয়ে খুন এবং ছেলের হাতে মা খুনের ঘটনায় মাস জুড়েই আলোচিত ছিলো।এছাড়াও রয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মর্মান্তিকভাবে দু’সহোদরের মৃত্যুর ঘটনাও। এসব ঘটনা গা শিউরে উঠার মতোই বলে মনে করছেন নিহতদের স্বজনরা। আবার এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে এ মাসেই। চাঞ্চল্যকর এসিড নিক্ষেপের ঘটনাও বেশ আলোচিত।পুলিশ এসব ঘটনায় বেশ কিছু আসামীকে গ্রেফতার করেছে। মাস জুড়ে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটলেও মাদক উদ্ধার সহ এক মাসেই দুই শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও বিভিন্ন মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে , মে মাসের শুরুতেই ১ মে মঙ্গলবার রাতে ভোলার সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ২ নং ওয়ার্ডে বিকাশের মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে রমজান আলী (১৬) নামের এক এসএসসি ফলপ্রার্থীর আত্মহত্যা করেছেন। ২ মে চরফ্যাশনে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে চাচাতো ভাইর হাতে খুন হন সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি। উপজেলার চর কলমি গ্রামে এ ঘটনায় পুলিশ চার জনকে গ্রেফতার করে।এ ঘটনার তিন দিন পর ৪ মে সন্ধ্যা দৌলতখানে ঘটে আরেক চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনা। জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে ছেলের হাতে খুন হয়েছে মা। উপজেলার দিদারুল্যাহ গ্রামে মা বকুল বেগমকে হত্যার পর নিজের আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় ঘাতক ছেলে করিম। পুলিশ করিমকে হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে।

৯ মে বুধবার সকালে তজুমদ্দিনের শেম্ভুপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের গ্লোকপুর গ্রামের বাক-প্রতিবন্ধী আব্দুল করিমের স্ত্রী নুরুনাহার (৩৫) নামের এক গৃহবধূর বিষপাণ করে আত্মহত্যা করলে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।১০ মে সদর উপজেলার আলীনগর গ্রামের কিস্তির টাকা তুলতে গিয়ে খুন হয়েছে হিড বাংলাদেশের এনজিও কর্মী বেলাল হোসেন। ঘটনার কয়েকদিন পর পুলিশ ঘাতক আরেক বেল্লালকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। ১১ মে লালমোহনে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছে বাবা কৃষ্ণকমল।

গত ১৩ মে রাতে সবচেয়ে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ডাবল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে ভোলা সদরের বাপ্তা গ্রামে। জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ভাই মাসুম ও তার শ্যালক জাহিদকে নিসংশভাবে হত্যা করে ঘাতক মামুন। এ ঘটনায় মামুনসহ অন্য আসামীরা এখনও গ্রেফতার হয়নি। এ ঘটনায় শহরে এখনো আলোচনার ঝড় বইছে।১৪ মে সকালে লালমোহনের পাঙ্গাশিয়া গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আল-আমিন (৫) ও সিয়াম (৩) নামে দুই সহোদরের মৃত্যু হয় একই দিন বিকেলে ভোলা সদরের মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যাক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশএছাড়া ওই দিবাগত রাতে ভোলা সদরের উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের খসিয়া গ্রামে এসিডে ঝলসে দেয়া হয় তানজিলা ও মারজিয়া নামের দুই বোনকে।স্কুল ছাত্রী তানজিলা আক্তার মালার সাথে প্রেম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এ এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে। এসিড নিক্ষেপের ১১দিন পর ২৬ মে পুলিশ ঘাতক মহব্বত হোসেন অপুকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

তার পরের দিন ১৫ মে লালমোহনের সবুজ বাগ বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তানিয়া (৩০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। ২৯ মে রাতে লালমোহনে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী নাজম বেগম (১৪) বখাটদের ইভটিজিং এর শিকার হয়ে বিষপাণ করলে ৩১ মে রাতে ভোলা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ৩১ মে দুপুরে দুলারহাটের মজিবনগরে স্বামীর সাথে অভিমান করে মিনার বেগম (৪০) বিষপাণে আত্মহত্যা করেন।এছাড়াও এ মাসেই ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রপাতে ২ জন সহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে অন্তত ৫ জন।মে মাস জুড়ে হত্যা খুন, আত্মহত্যা ও এসিড নিক্ষেপের ঘটনা আলোচিত বিষয় থাকলেও মাদক উদ্ধারে পুলিশের অভিযান সক্রিয় ছিলো জেলার সাত উপজেলা।