‘ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে মাদকের তালিকায় নিরপরাধীর নাম’

মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে নিরীহ ব্যক্তির নাম। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সচেতন হওয়া উচিত। পুলিশের দাবি, নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয় মাথায় রেখেই কাজ করছে তারা।

গত মাস থেকে দেশজুড়ে চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযান। অভিযানে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীকে। বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন ১৩১ জন।

আর এই অভিযান চালাতে মাদক ব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক সময় তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নামও প্রকাশ হয়ে পড়ছে। চলে আসছে সংবাদমাধ্যমে। আর এক্ষেত্রে সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছেন তারা। এছাড়া পূর্ব শত্রুতা থেকে অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে বলে মনে করেন তারা।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী জামাল বলেন, ‘একশ্রেণির লোক আছে যারা কখনই ভাল কাজ করে না, তারা কিছু কিছু পূর্বশত্রুতার উদ্ধারের জন্য নাম দিয়ে দেয়। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলবো প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযান চালাতে।’

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘আদালতের মাধ্যমে অপরাধী প্রমাণের আগে কারো নাম জনসমক্ষে চলে আসা অবশ্যই বিব্রতকর।’
অধ্যাপক মনিরুল ইসয়াম খান বলেন, ‘একটি লোককে যদি আপনি একবার কলুষিত করে দেন, সে আর সমাজে থাকতে পারে না। এতে করে দেখা যাক, অনেকসময় ঐ লোক খারাপ কাজে জড়িত না থাকলেও পরবর্তীতে খারাপ কাজের দিকেই ধাবিত হয়।’

তবে পুলিশের দাবি, নিরপরাধ কাউকে নয়, শুধুমাত্র প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনছে তারা। অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘এটি আসলে ঢালাওভাবে অভিযোগ করলে হবে না। যদি কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অভিযোগ করে তবে অবশ্যই তার শাস্তি দেয়া হবে।’ নিজেদের স্বার্থে কারো নাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় দেয়া হচ্ছে কি না সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে দাবি পুলিশের।