মাদ্রাসা শিক্ষক আটকে প্রতিবাদে মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল

কুয়াকাটা পৌরসভার পাঞ্জুপাড়ায় দারুসুন্নাত সালেহীয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসা ও খানকার প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলামকে (৪৫) মাদ্রাসা কক্ষে আটদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে।এসময় তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদের জোর করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এক কাপড়ে রমাজানের দিনে মাদ্রাসা শিক্ষককে আটকে রাখার ঘটনার প্রতিবাদে শত শত মানুষ মাদ্রাসার সামনের সড়কে রবিবার সকাল ১০টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

মাদ্রাসা সংলগ্ন প্রভাবশালী জমিয়াতুল হিযবুল্লাহ মহিপুর থানা শাখার সভাপতি ও মাদ্রাসার পরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন এভাবে শিক্ষক মাওলানা রফিকুল ইসলামকে আটকে রাখেন এবং প্রধান শিক্ষকের দুই সন্তান মাদ্রাসা ছাত্রসহ অন্যান্য ছাত্রকে বের করে দেয়। ২৪ মে বেলা ১১টার দিকে এসব কান্ড ঘটান আফজাল হোসেন। পহেলা জুন এ খবর পেয়ে স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মোসলেম আলী শিক্ষক রফিককে অবরুদ্ধ দশা থেকে উদ্ধার করেন। কিন্তু বিষয়টি জানজানি হয়ে গেলে ক্ষুব্ধ মানুষ প্রতিবাদে নামেন। এখবর শোনার পরে মহিপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান উভয়কে দুপুরে থানায় ডেকে নেন। তখন আপোস রফা এবং আনুষ্ঠানিক ফয়সালার কথা বলে মুচলেকা দিয়ে তারা ফিরে আসেন।জানা গেছে, মাদ্রাসার বিভিন্ন খাতের আয়-ব্যয়সহ টাকা পয়সার হিসাব ও বকেয়া বেতন চাওয়ায় শর্ষীনার পীর সাহেবের অনুসারীদের খানকা এবং মাদ্রাসার হওয়ায় হিযবুল্লাহ কমিটির সভাপতি এমন হস্তক্ষেপ চালান। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভে অংশ নেয়া শাজাহান বিশ্বাস, মো. দুলাল কাজীসহ একাধিক ছাত্র ও শিক্ষকদের অভিযোগ, একজন শিক্ষকের উপর হামলায় গোটা শিক্ষক সমাজ বিক্ষুদ্ধ। রমজানের মধ্যে একজন রোজাদার শিক্ষককে যে পিটিয়েছে সে মানুষরূপী অমানুষ। তার শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। আফজাল হোসেনকে জাহেলী যুগের ন্যায় লাঞ্ছিতকারী হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন।এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ নেমে আসে। মাওলানা রফিকুল ইসলাম জানান, তার সঙ্গে অমানবিক আচরন করা হয়েছে।

তারপরও হুজুরের (শর্ষীনার পীর সাহেব) সম্মানের জন্য বিষয়টি সমাধানে যাচ্ছি। আফজাল হোসেন জানান, তিনি মাদ্রাসার পরিচালক। একটু সমস্যা হয়েছে। সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর যারা মানবন্ধন করেছে তারা শর্ষীণা হুজুরের কোন অনুসারি নয়। বিরোধীপক্ষ। মহিপুর থানার ওসি মোঃ মিজানুর রহমান জানান, উভয়পক্ষকে ডেকে আনায়। তারা লিখিত মুচলেকা দিয়ে সমাধানের কথা বলে গেছেন। এনিয়ে কেউ আইন-শৃঙ্খলা বিঘœ কিংবা অমানবিক কিছু করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।