রাজাকারের ভাইয়ের নামে স্কুল উদ্বোধন: প্রতিবাদে ছাত্রলীগের মিছিল

যশোরের মণিরামপুরের কুখ্যাত এক রাজাকারের ভাইয়ের নামে স্কুল উদ্বোধনের প্রতিবাদে রবিবার মনিরামপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। তারা বলেছেন, রাজাকারের ভাইয়ের নামে ওই প্রতিষ্ঠান তারা মেনে নেবেন না।গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য উপজেলার হাজরাকাটি-বেলতলা বাজারে নিছার আলী মেমোরিয়াল অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় নামের এই প্রতিষ্ঠানটি উদ্ধোধন করেন। প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়েছে কুখ্যাত রাজাকার আফসার আলী মোড়লের ভাই নিছার আলীর নামে।স্থানীয় এমপি স্কুলটি উদ্বোধন করায় মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মণিরামপুরের হাজরাকাটি গ্রামের আফসার আলী মোড়ল রাজাকারের দলে নাম লেখায়। সে মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তাকারী পরিবারগুলোর ওপর ব্যাপক অত্যাচার নির্যাতন চালাতো। তার সহোদর নিছার আলীও রাজাকারদের সহায়তাকারী ছিলো। আফসার রাজাকারসহ রাজাকাররা ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডা. তোফায়েলসহ হাজরাকাটি গ্রামের মুন্তাজ মোড়লসহ সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ওমর আলী সানা, শাহালী সানাকে ধরে নিয়ে খেজুর গাছে বেঁধে রাখে। আজ অবধি তাদের খোঁজ পায়নি পরিবার। সেই আফসারের ভাই নিছার আলীর নামে স্কুল উদ্বোধন করায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।এছাড়া ১৯৭১ সালের ২৩ অক্টোবর স্বাধীনতাকামী পাঁচ সূর্যসন্তান মুশফিকুর রহমান তোজো, সিরাজুল ইসলাম শান্তি, ফজলুর রহমান ফজলু, আহসান উদ্দীন খান মানিক ও আসাদুজ্জামান আসাদকে নির্মমভাবে হত্যার পেছনেও আফসার রাজাকারের হাত ছিলো বলে অনেকে জানান।

মণিরামপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলাউদ্দিন জানান, আফসার আলী মোড়ল উপজেলার তালিকাভুক্ত শীর্ষ রাজাকার। এমন একজন কুখ্যাত রাজাকারের ভাইয়ের নামের স্কুল এমপির হাত দিয়ে উদ্বোধন করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাতের শামিল। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মনিরামপুর পৌরসভার কাজী মাহমুদুল হাসান বলেন, নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হয়ে পুনরায় দলে এসে এভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বপন ভট্টাচার্য আঘাত দেবে তা কোনো ক্রমেই মেনে নেয়া যায় না।এদিকে রবিবার সকালে মনিরামপুর বাজারের এই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ। মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মুরাদুজ্জামান মুরাদ, সাবেক সাধারন সম্পাদক কাজী তাজাম্মুল হক টিটো, যুগ্ন আহবায়ক ফজলুর রহমান, যুগ্ন আহবায়ক ফরহাদ হোসেন, ছাত্রনেতা ওলিয়ার রহমান, সৌমিক হক অনিক, রাজু আহমেদ, হারুন আর রশিদ, মাহবুর রহমান, মুর্শিদ, মনিরামপুুর কলেজ ছাত্রলীগের নেতা হাবিবুর রহমান দিপ, মেহেদি হাসান, সোহাগ। প্রমুখ।