ফেনীতে অনুমতিবিহীন দেদারছে বিক্রি হচ্ছে প্যাথডিনসহ চেতনানাশক ইনজেকশান

ফেনী শহর ও উপজেলা শহরে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের অনুমতি না নিয়ে সরকারী আদেশ অমান্য করে প্রকাশ্যে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে চেতনা নাশক ও নেশা জাতীয় নানা ইনজেকশান।

সুত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন হাসপাতালে অপারেশনের জন্য রোগীদের অচেতন করতে হলে প্যাথডিন, মারফিন, বিউরিপেন, বুপ্রেনরফাইনসহ আরো বিভিন্ন ধরনের চেতনানাশক ও নেশা জাতীয় ইনজেকশান ব্যবহার করতে হয়। এসব ইনজেকশান বিক্রি, সংরক্ষন, বহন কিংবা ব্যবহার করতে হলে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। অথচ জেলা শহরে মাত্র ফেনী ডায়াবেটিস হাসপাতাল ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এই ২টি হাসপাতাল ও রাজ্জাক র্ফামেসী, বাপ্পি মেডিকেল হল, গোবিন্দ ফামেসী, মৌসুমী ফামের্সী এই ৫টি ফামের্সী মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স থাকলেও বাকী সকল হাসপাতাল ও ফার্মেসী অনুমতি না নিয়ে দেদারছে আইন অমান্য করে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে এসব ইনজেকশান। জানা যায়, বেশির ভাগ হাসপাতালে ওটি ব্রাদাররা ওষধের একটি লিস্ট রোগীর স্বজনদের ধরিয়ে দেয় ও সে স্লিপ নিয়ে হাসপাতালের ফামের্সী থেকে অপারেশানের ঔষধ কিনে নেয়। ফেনী শহরে ২২টি প্রাইভেট হাসপাতাল রয়েছে এর মধ্যে ফেনী ডায়াবেটিস হাসপাতাল ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ফেনী এই ২টি হাসপাতালে এ সকল মারপিন জাতীয় ইনজেকশান ব্যবহারের মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের অনুমোদিত লাইসেন্স রয়েছে। একটি হাসপাতাল অনুমতির জন্য আবেদন করেছে, অন্য ২০টি হাসপাতাল লাইসেন্স না নিয়ে অপারেশান করার জন্য সকল রোগীদের এ সকল ইনজেকশান ব্যবহার ও বিক্রি করছে। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী হাসপাতাল সংলগ্ন ফামের্সীতে এ সকল নেশা জাতীয় ইনজেকশান বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের নিদের্শনা অনুযায়ী প্রত্যেক হাসপাতালের র্ফামেসী বিভাগকে ও বিক্রেতাকে এ লাইসেন্স থাকা বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ নিয়ম মানছে না কোন বিক্রেতা। এছাড়াও প্রত্যেক হাসপাতালের অপারেশান করা রোগীদের সাজেষ্ট করা চিকিৎসক এবং প্রেসক্রিশানের মুলকপি বিক্রেতার কাছে জমা দিলে বিক্রেতা তা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিসে মাসিক প্রতিবেদন জমা দিতে নিদের্শনা থাকলেও শুধুমাত্র অনুমোদিত ২টি হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোন হাসপাতাল ইনজেকশান ব্যবহারের কোন প্রতিবেদন জমা দেয় না। তবে আশ্চর্য্যের বিষয় হল ৫টি ফামের্সীতে এ জাতীয় ড্রাগ বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে সে সকল দোকানে বছরে ১টি ইনজেকশানও বিক্রি হয়না বলে জানিয়েছে ট্রাংক রোডের বাপ্পি মেডিকেল হলের মালিক রাজেস্বর দেবনাথ। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের এক অভিযানে একটি হাসপাতালে অবৈধ ভাবে প্যাথডিন বিক্রির করার সময় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সামনে একটি হাসপাতালের ফামের্সীর মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, এ সকল হাসপাতালে বছরের পর বছর এভাবে প্যাথডিন ব্যবহার হলে ও ফেনী জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর কোন নির্দেশনা কোন অভিযান কিংবা কোন মামলা করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনীস্থ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু আবদুল্লাহ আল জাহিদ জানান, এবিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।