অদম্য এক মেধাবীর গল্প:চরম আর্থিক সংকটে কলেজে ভর্তি নিয়ে সংশয়

জীবনের শুরুতেই সীমাহীন দরিদ্রতার কষাঘাতে আর বিভিন্ন অসঙ্গতির সঙ্গে নিত্য সংগ্রাম যেন নিত্য নিয়তি মেধাবী দরিদ্র ছাত্র গোলাম রাব্বির। তবে তার বহু প্রতিকুলতার সঙ্গে নিরন্তন সংগ্রাম করেও জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হচ্ছে। ভালো ফলাফলে দু’চোখ ভরা উচ্ছাস থাকলেও এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় এক নম্বরের জন্য গোল্ডেন এ প্লাস না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। তার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার ব্যয় কীভাবে মিটবে সে দুশ্চিন্তায় তাড়া করে ফিরছে তার। কিন্তু সব প্রতিবন্ধকতা দাবিয়ে এবার এসএসসিতে গড় নম্বর ৮৮.৮সহ জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে দরিদ্র মেধাবী ছাত্র গোলাম রাব্বি।

তার স্বপ্ন ডাক্তার হয়ে সমাজের দরিদ্র মানুষের সেবা করার। সে সমাজের হৃদবান মানুষের বা কোন সংস্থার সহযোগীতায় আরো এগিয়ে যেতে চায় বলে জানা যায়। এ হতদরিদ্র মেধাবী ছাত্র গোলাম রাব্বি কালকিনি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার বাবা অলিউল্লাহ ২০১২ইং সালে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর তার সংসারে নেমে আসে কালোমেঘের ছায়া। তার মা রুমা বেগম একজন পেশায় গৃহীনি। গোলাম রাব্বির দুই ভাই বোন। বড় বোনটা খুব কষ্ট করে মাদারীপুর সরকারি নাজিমুদ্দিন কলেজে অনার্স ২ বর্ষে পড়ালেখা করছেন। গোলাম রাব্বি ২০১২ইং সালে কালকিনি উপজেলার চরলক্ষী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাসে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে। সে সময় তিনি মেধা তালিকায় উপজেলা পর্যায় প্রথম স্থান লাভ করে। এরপর ২০১৫ইং সালে কালকিনি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাসসহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়।

এভাবে তিনি একের পর এক কৃতিত্বের সঙ্গে ভালো ফলা ফলে এগিয়ে যায়। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১২টি বিষয়ের মধ্যে ১১টিতে গোল্ডের এ প্লাস পেলেও বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে ৭৯ নম্ভর পায়। এ বিষয়ে পুর্ন নিরক্ষের জন্য আবেদ করেও কোন ফল পায়নি গোলাম রাব্বি। মাত্র এক নম্ভরের জন্য গোল্ডের এ প্লাস না পাওয়ায় মানুষিক ভাবে বিপর্যয় হয়ে পরেছে গোলাম রাব্বি। এ ব্যাপারে সে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছে।এ ছাড়া আর্থিক সংকটের কারণে পিছিয়ে পরার সংখ্যা প্রকাশ করেন গোলাম রাব্বি।এ ব্যাপারে গোলাম রাব্বির মা রুমা বেগম বলেন, আমি আমার ছেলের পড়ালেখা করাতে চরম আর্থিক সংকটে ভুগতেছি। এখন কলেজে ভর্তি করে তাকে পড়ালেখা করানো আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছেনা।