বীরত্বের পরও বিষাদের হার ও হোয়াইটওয়াশের লজ্জা

আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১ রানের ব্যবধানে হেরে হোয়াইটওয়শের লজ্জাও পেল বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করে টাইগার বাহিনী।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪৫ এবং দ্বিতীয়টিতে ৬ উইকেটে পরাজিত হয় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দল। বরাবরের মতো আজকেও ডেথ ওভারে গিয়ে টাইগারদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। শেষ ওভারের শেষ বলে চার জয়ের তরী ডোবে বাংলাদেশের। অথচ ১৯তম ওভারে মুশফিক টানা ৫ চারের বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্নও দেখিয়েছিল।
১৯তম ওভারে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। রশিদ খানের করা ২০ তম ওভারের প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে মুশফিক ফিরে গেলেও মাহমুদউল্লাহ ব্যাটিং প্রান্তে থাকায় জয়ের সম্ভাবনাও থেকে যায় তামিম-মিরাজদের। তবে ব্যর্থ হোন মাহমুদউল্লাহ।

শেষ বলের সমীকরণ দাঁড়ায় চার রান। ক্রিজে নবাগত আরিফুল উড়িয়ে মেরেছিলেন রশিদকে। তবে বাউন্ডারি লাইনে অসাধারণ নৈপূণ্যে ৬ বাঁচিয়ে মাত্র দুই রান নিতে বাধ্য করেন আফগান ফিল্ডার। তৃতীয় রান নিতে গিয়ে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। রিয়াদের ব্যাট থেকে আসে ৪৫ রান। সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন মুশফিকুর রহিম।

তিন ম্যাচ সিরিজের কোনোটিতেই শুরুটাও ভালো ছিলনা টাইগারদের। ২ ওভার চার বলের মাথায় মাত্র ১৬ রানে তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর মাঠে থিতু না হতেই লিটনের ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে ১৫ রানের মাথায় রান আউট হয়ে ফিরে যান সৌম্য সরকার। সৌম্যকে আউট করে ক্ষান্ত হননি এ ডান হাতি ওপেনার। নিজেও রান আউট হয়ে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। আউট হওয়ার আগে করেন ১২ রান। ১ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে টিম বাংলাদেশ।

ক্রিজে আসেন সাকিব আল হাসান। এদিন তিনিও নিজের নামের সুবিচার করতে পারেননি। দলীয় ৫৩ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরে যান এ অলরাউন্ডার। এবার মুশফিককে সঙ্গ দিতে মাঠে আসেন মাহমুদউল্লাহ। এ ব্যাটসম্যান শুরুটা করেন ধীরে-ধীরে। তবে দ্রুত খুলতে তার ব্যাট। মুশফিকের সঙ্গে তার জুটিতে বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখতে থাকে জয়ের। কিন্ত তীরে এসে আবারও ডুবেছে জয়ের তরী।
আফগানিস্তানের হয়ে করিম জানাত এক উইকেট আর মুজিবুর নেন একটি উইকেট। বাকী দুজনকে রান আউট করে সাজঘরে পাঠায় আফগানরা।

এর আগে লড়াকু ব্যাটিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশকে ১৪৬ রানের টার্গেট দেয় আফগানিস্তান। টসে জিতে বাংলাদেশকে বোলিংয়ে পাঠান আফগান অধিনায়ক আসগর স্তানিকজাই। আফগানদের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান। ওপেনিংয়ে নামা শাহজাদ ২৬, উসমান গণি ১৯ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। টপ অর্ডারে নামা আসগরের ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। তবে মোহাম্মদ নবী ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই তাকে মাত্র তিন রানে সাজ ঘরে পাঠান আবু জায়েদ। ছয়ে নামা নাজিবুল্লাহ জাদরান আউট হন ১৫ বলে ১৫ রান করে।

ইনিংসের অষ্টম ওভারে প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ দল। নাজমুল ইসলাম অপুর বোলিংয়ে ওপেনিংয়ে নামা শাহজাদ লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন। পরের ওভারের পঞ্চম বলে আবার আবু জায়েদের আক্রমণে দ্বিতীয় উইকেট হারায় আফগানরা। তারপর আবারও জায়েদ আক্রমণ করেন আফগান শিবিরে। উসমান গনিকে উইকেটের পেছেনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন জায়েদ।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন আবু জায়েদ ও নাজমুল ইসলাম। এছাড়া আরিফুল ও সাকিব নেন একটি করে উইকেট। টাইগারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে বোলার ছিলেন মেহেদি মিরাজ। তার করা দুই ওভার থেকে আসে ২৭ রান। তবে সবচেয়ে কৃপণ ছিলেন সাকিব। তার চার ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।

এদিন প্রথম ওভারে মেহেদি মিরাজকে বল দিয়েছিলেন সাকিব। তবে তাকে দেখা যায়নি তার নিয়মিত চরিত্রে। অবশ্য নিজেদের ধারাবাহিতকাতয় বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারি হাঁকাচ্ছিলেন শাহজাদ-গনি।