ভ্রমণ সুবিধা করতে অতি শিঘ্রই আসছে তিন কোটি ই-পাসপোর্ট। এই বিষয়ে ইতোমধ্যে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে জার্মানির সরকারি প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস জেএমবিএইচের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভ্রমণ সুবিধা করতেই তিনটি বিমানবন্দরে ই-গেটও থাকবে। ই-গেইটে থাকবে সার্ভার, রাউটার, সফটওয়ার ইন্সটলেশন, স্ক্যানার, ক্যামেরা ও ই-পাসপোর্ট রিডার আধুনিক মেশিন।বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে ভ্রমণকারীদের দীর্ঘ সময় কিউতে দাড়িয়েঁ অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ই-গেটের ব্যবস্থা চালু করা হলে আর দীর্ঘ সময় কিউতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।

ই-পাসপোর্টধারীরা স্বয়ংক্রিভাবে বিমানবন্দরে ই-গেইটের মাধ্যমে ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। শুধু পাসপোর্টটি ই-গেটের নির্দিষ্ট পয়েন্টে স্পর্শ করলেই ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়ে যাবে চোখের পলকে। ই-পাসপোর্টধারীর কোনো ঝামেলা থাকলে লাল বাতি জ্বলে উঠবে ই-গেটে। তখন স্বয়ংক্রিভাবেই তিনি আটকে যাবেন ইমিগ্রেশনে।

এখন দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) মালিক। প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার মানুষ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছেন। সময়মতো পাসপোর্ট দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে পাসপোর্ট অফিসগুলো। ২০১০ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) চালু হওয়ার সময় যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছিল সেগুলো দিয়েই এখনো কাজ চলছে। এসব যন্ত্রের অধিকাংশই বিকল। এক যন্ত্রের পার্টস অন্য যন্ত্রে বসিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে কাজ।

‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন’ প্রকল্পের আওতায় তিন কোটি ই-পাসপোর্ট তৈরি করা হবে। তিন কোটি ই-পাসপোর্ট তৈরির পাশাপাশি হযরত ঢাকা শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট তৈরি করা হবে।

প্রকল্পটি প্রণয়নে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকল্পটি যাতে করে আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদন পায় সেই বিষয়ে সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছেন তিনি। ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ই-পাসপোর্ট এখন আন্তর্জাতিক চাহিদা। কারণ ২০২০ সালের পরে অনেক দেশ এমআরপি বন্ধ করে দেবে। সেই জন্যই আমরা এটা চালু করতে যাচ্ছি। আশা করি,

প্রকল্পটি আগামী মঙ্গলবার অনুমোদনের পরেই ই-পাসপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি তিনটি বিমানবন্দরেও শুরু হবে ই-গেট তৈরির কাজ। কারণ ই-পাসপোর্টধারীরা ই-গেটের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করবেন। ই-গেটে কোনো সময় ক্ষেপণ না। কয়েট মিনিটেই ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যাবে। তবে যাঁদের হাতে তখনও এমআরপি পাসপোর্ট থাকবে, তাঁদের ইমিগ্রেশনের কাজ বিদ্যমান পদ্ধতিতেই চলমান থাকবে।’

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ৩৮ ধরণের তথ্য থাকবে ই-পাসপোর্টে। বর্তমানে এমআরপি ডেটাবেইজে যেসব তথ্য আছে, তা ই-পাসপোর্টে নেয়া হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ হবে বয়সভেদে ৫ ও ১০ বছর। তবে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এমআরপি পাসপোর্টটি বাতিল হয়ে যাবে না। তবে কারও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তাঁকে এমআরপির বদলে ই-পাসপোর্ট নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, এমআরপি’র মতই বই আকারে ই-পাসপোর্ট তৈরি করা হবে। তবে বর্তমানে পাসপোর্ট বইয়ের শুরুতে ব্যক্তির তথ্যসংবলিত যে দুটি পাতা আছে, ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না। থাকবে পলিমারে তৈরি একটি কার্ড। এই কার্ডের মধ্যে থাকবে একটি চিপ। সেই চিপে পাসপোর্টের বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।’

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্টের নমুনা কপি (Specimen copy) এরই মধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন। প্রযুক্তিবান্ধব বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রীর এটি আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বর্তমানে ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট চালু রয়েছে বিশ্বের ১১৮টি দেশে। ১১৯ নম্বর দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্টের যুগে ঢুকে পড়া এগিয়ে রাখবে বাংলাদেশকে। নিরাপত্তা চিহ্ন হিসেবে ই-পাসপোর্টে থাকবে চোখের মণির ছবি ও আঙুলের ছাপ। আর এর পাতায় থাকা চিপসে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য। ফলে কঠিন হবে পরিচয় গোপন করা। জার্মানির সহযোগিতায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এ পাসপোর্টের একটি ‘চিপ’ সহজ করে দেবে বিশ্বভ্রমণ।