চিকিৎসার বিষয়ে এখনও সম্মতি দেননি খালেদা জিয়া

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রস্তাবে এখনও সম্মতি জানাননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি সম্মতি জানালেই কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া অপশনগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।বুধবার (১৩ জুন) দুপুরে তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সর্বশেষ কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘দেখুন আমরা কী করতে যাচ্ছি। খালেদা জিয়াকে যারা চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন, যাদের চিকিৎসা তিনি নেন, সেই বিশেষজ্ঞ চারজনকে আমরা নিয়ে গিয়েছিলাম, সেটা আপনারা জানেন। আমাদের সিভিল সার্জন, কারাগারের ডাক্তার সবাই একসঙ্গে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তাদের সেই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তার পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি। আমরা কোথায় নিয়ে যাবো। এখন তারা যদি সম্মতি প্রকাশ করেন, তাহলেই আমরা সেই ব্যবস্থা করবো। আমাদের আইজি প্রিজনস কিছুক্ষণ আগে জানিয়েছেন খালেদা জিয়া এখনও কোনও সম্মতি দেননি। আমরা আশা করি, যেকোনও সময়েই তিনি সম্মতি প্রকাশ করবেন। তখনই আমরা আমাদের যে অপশনগুলো ছিল, সেসব অপশনে নিয়ে যাবো।সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘হত্যাকা-ের ঘটনায় আমাদের কয়েকটি টিম কাজ করছে। আমরা নিশ্চয়ই তাদের ধরে ফেলবো। আজ পর্যন্ত গত কয়েক বছরে যত হত্যাকা- হয়েছে, সবগুলোই আমরা উদঘাটন করেছি। জড়িতদের শনাক্ত করেছি এবং বেশিরভাগই আমরা ধরে ফেলেছি।ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কোনও হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনোক্রমেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে দেবো না। ২৮ রোজা চলে এসেছে। আজ পর্যন্ত কোনও ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি। আশা করি কিছু হবে না। এ পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট হুমকি নাই। সবাই সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে। সারাদেশের মানুষ যে প্রত্যাশা করেন, সবাইকে নিয়ে, তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে তারা ঈদ উদযাপন করবেন। আমরা মনে করি, তারা সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত,ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দিয়ে তাকে বেসরকারি হাসপাতালটিতে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।কারাবন্দি ব্যক্তির বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় জটিলতা নিয়ে কারা মহাপরিদর্শকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় দলটি।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা দেশনেত্রীর উপযুক্ত চিকিৎসা চাই বলে আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে জানাতে চাই যে, প্রয়োজনে চিকিৎসার সমুদয় ব্যয় আমাদের দল বহন করবে।আমরা দাবি করছি, কালবিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণের পরামর্শ অনুযায়ী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হোক।কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিতে বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেছিলেন, বন্দিকে বেসরকারি হাসপাতালে নিতে সরকারের অনুমোদন লাগবে। পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যয় নিয়েও জটিলতা রয়েছে।এর পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার সরকারের কাছে একটি আবেদন করা হয়। তবে সেই আবেদন পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বিএসএমএমইউতে না হলে সিএমএইচে নেওয়া যেতে পারে বিএনপি চেয়ারপারসনকে।খালেদার চিকিৎসা সংক্রান্ত আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিএনপির প্রতিনিধি দল যাওয়ার পর, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিএমএইচে নেওয়ার প্রস্তাব আসার আগে নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন খন্দকার মোশাররফসহ বিএনপি নেতারা।খন্দকার মোশাররফ বলেন, দেশনেত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে সচিবালয়ে গেছেন। তার চিকিৎসার সমুদয় খরচ পরিবারের পক্ষ থেকে বহন করবে বলে সেই আবেদন নিয়ে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেছেন। আর আমরা কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বলছি, আমাদের দলের চেয়ারপারসনের চিকিৎসার সকল খরচ দল বহন করবে।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার অতীত নজির তুলে ধরে বলেন, তথাকথিত ১/১১ সরকারের সময়েও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিলো।অথচ তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাবাহিনীর প্রধানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারি অনুমোদন ও অর্থ সংস্থানের ব্যাপারে এতদিনের সিদ্ধান্ত না হওয়া রহস্যজনক ও নিন্দনীয়।তিনি বলেন, এখনও অনেক বন্দি বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১/১১ সরকারের সময়ে শুধু শেখ হাসিনা নন, আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল সাহেব বেসরকারি প্রাইভেট হাসপাতালে এবং আরও অন্যান্যদের স্কয়ার, এ্যাপেলো হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।সরকারের আচরণে দেশবাসী ক্ষুব্ধ হচ্ছে বলে দাবি করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।খালেদাকে ইউনাইটেডে নেওয়ার দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশনেত্রী যে যে ধরনের অসুস্থতায় ভুগছেন এবং সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে। তার উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে হলে এবং তার জন্য যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়, সেই আধুনিক যন্ত্রপাতি ইউনাইটেড হাসপাতালে আছে বলেই আমরা এই হাসপাতালে আমাদের নেত্রীকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করছি।