ফ্রান্সের বিশ্বজয়!

ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো ফ্রান্স। ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে স্বপ্নের সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নিল এমবাপে-গ্রিজম্যানরা। ফ্রান্সের জয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ একটি জিনিস প্রমান করেছে বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতা অনেক বড় ব্যাপার। ক্রোয়েশিয়া মূলত ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা ও তরুণদের স্পিডের কাছেই হেরে বসেছে। এছাড়া ফ্রান্সের প্রতিটি খেলোয়াড়ের বড় বড় লিগে খেলার অভিজ্ঞতাটাও আজকের ম্যাচে দারুন কাজে দিয়েছে। ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে মানজুকিচ, রাকিটিচ ও মদ্রিজের বড় ক্লাব ও লিগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের কথা না বললেই নয়। তিনি খেলোয়াড় হিসেবেও ফ্রান্সের হয়ে শিরোপা জিতেছেন। সেই অভিজ্ঞতাটাও দলকে দুর্দান্ত খেলতে উৎসাহ জাগিয়েছে।

এদিকে খেলার ৪ মিনিটের মাথায় ক্রোয়েশিয়ার সুযোগ ছিল এগিয়ে যাওয়ার। মাঠের ডান দিকে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়ের বাড়িয়ে দেওয়া বল স্ট্রাইকার মানজুকিচ মাথা লাগাতে না পাড়ায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় ফ্রান্স। খেলার ১০ মিনিট পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়া নিজেদের কাছেই বল পজেসন রেখে খেলতে থাকে। প্রথম ১০ মিনিটে ক্রোয়েশিয়া বেশ কয়েকটি আক্রমণ করে। অন্যদিকে প্রথম ১০ মিনিটে ফ্রান্স সেরকম উল্লেখযোগ্য কোন আক্রমণ করতে পারেনি।

প্রথম দিকে আক্রমন করতে না পারলেও খেলার ১৬ মিনিটের সময় ফ্রান্স আক্রমণের দুর্দান্ত সুযোগ পায়। ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় সেই আক্রমণকে প্রতিহত করতে যেয়ে আঁতোয়ান গ্রিজম্যানকে ফাউল করে বসেন। ফাউল থেকে রেফারি ফ্রি কিকের নির্দেশ নেয়। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি কিকটি ক্রোয়েশিয়ার স্ট্রাইকার মানজুকিচের মাথায় লেগে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন। আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।

গোল হজমের পর গোল আদায়ে মরীয়া হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। খেলার ২৮ মিনিটের সময় ক্রোয়েশিয়ার পেরেসিচ দুর্দান্ত ভাবে বল নিজের দখলে নিয়ে দলকে সমতায় ফেরান। ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে সমতায় ফিরলে ফ্রান্স আক্রমনের ধার বৃদ্ধি পায়। খেলার ৩৩ মিনিটের সময় ফ্রান্সের করা এক কর্নার থেকে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সাহায্যে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। পেনাল্টির দায়িত্ব নেন গ্রিজম্যান। পেনাল্টি থেকে গ্রিজম্যান গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন।

ফ্রান্স এগিয়ে যাওয়ার পর ক্রোয়েশিয়া প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল খেলায় সমতায় ফেরার। কিন্তু আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় ক্রোয়েশিয়া প্রথমার্ধে ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স দূর্বার মূর্তি ধারণ করে। রীতিমত ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে ছেলে খেলা খেলতে থাকে ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ক্রোয়েশিয়ার সুযোগ এসেছিল এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু ফ্রান্সের গোলকিপার লরিস ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটি দুর্দান্ত ভাবে রুখে দেন।

আগের শটটি ঠেকিয়ে দিয়ে নিজের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পায় তাঁর। যার ফলে আবারও দলকে গোল হজম করা থেকে বিরত রাখেন। খেলার ৫১ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু এমবাপের করা দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকটি রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার সুবাসিচ।

খেলার ৬০ মিনিটের সময় ফ্রান্স আবারও এগিয়ে যায়। দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন পগবা। এতে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় ফ্রান্সের দ্বিতীয় শিরোপা। তৃতীয় গোলের ৫ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ৬৫ মিনিটের মাথায় দূরপাল্লার এক শটে এমবাপে ক্রোয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। এরই মধ্য দিয়ে এমবাপে ৭ ম্যাচ খেলে ৪টি গোল করলেন ফ্রান্সের হয়।

খেলার ৬৮ মিনিটের সময় ক্রোয়েশিয়া শুধু গোল ব্যবধান কমায়। ফ্রান্সের গোলকিপার লরিসের ভুলে ক্রোয়েশিয়া ব্যবধান কমায়। ক্রয়েশিয়ার পক্ষে গোল করেন মানজুকিচ।

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণের ধাঁর বিন্দু মাত্র কমে যায়নি। ম্যাচের যত সময় যাচ্ছিল ক্রোয়েশিয়া গোল ব্যবধান কমাতে তত মরীয়া হয়ে উঠতে থাকে। কিন্তু আক্রমণভাগ গোলের ব্যবধান কমাতে বার বার ব্যর্থ হতে থাকে। সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে ক্রোয়েশিয়ার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করেও গোল ব্যবধান কমাতে না পাড়ায় রানার্সআপ হয়েই বিশ্বকাপের মিশন শেষ করতে হয় তাদের।