প্রতি বছরই কমছে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম

ক্রমেই কমছে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম। ২০১৩ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। এ বছর তার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা করে। ২০১৩ সালে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম ছিলো ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বছর তার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকা করে। চামড়ার দাম কমার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে যাওয়া এবং দাম পড়ে যাওয়াকে দায়ী করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
চামড়া ব্যবসায়ীরাও বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে গিয়ে কম দামে চামড়া কেনার কোনো বিকল্প নেই। তাদের মতে, বিশ্বব্যাপী আর্টিফিশিয়াল (কৃত্রিম) চামড়ার সামগ্রীর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আসল চামড়ার সামগ্রির চাহিদা কমে গেছে ৫০ শতাংশ।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০১৩ সালে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত। ২০১৪ সালে দাম কমতে শুরু করে। ওই বছর প্রতি ফুট গরুর চামড়া ৭০ থেকে ৭৫ টাকা আর খাসির চামড়ার দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত।
২০১৫ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ এবং খাসির চামড়া ২০ থেকে ২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৬ সালে চামড়া প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০ টাকা এবং খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ টাকা করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০১৭ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারিণ করে দেয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২০ থেকে ২২ টাকা।চামড়ার দাম কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে লেদার ও ফিনিশড লেদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, অনেক ত্যাগ স্বীকার ও পরিশ্রমের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের চামড়ার তৈরি পণ্যের একটি বাজার তৈরি করেছিলাম। তবে এ বাজারটি হচ্ছে বিশ্বব্যাপী নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তের ওপর নির্ভর করে। উচ্চবিত্তের বাজার আমরা তেমন একটা পাইনি। কারণ আমাদের কারখানাগুলো বিভিন্ন কারণে এখনো ফুল কমপ্লায়েন্স (সম্পূর্ণ শ্রমিকবান্ধব) হয়ে উঠেনি। দ্বিতীয়ত চামড়ার সামগ্রী বিশ্বব্যাপী একটি বিলাসী পণ্য হিসেবেই স্বীকৃত। নিম্ন আয়ের মানুষ চামড়ার সামগ্রী বছরে একবারই কিনে। ফলে বাংলাদেশের ফিনিশড লেদার ও লেদার সামগ্রির চাহিদা অনেক কমে গেছে।মহিউদ্দিন মাহিন আরো বলেন, গোটা বিশ্বব্যাপী এখন কৃত্রিম চামড়াজাত সামগ্রীর কদর বেশ বেড়েছে। প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষই এখন কৃত্রিম চামড়াজাত সামগ্রী ব্যবহার করে থাকে। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি আর্টিফিশিয়াল লেদার সামগ্রী দেখতে হুবহু আসল লেদারের মতোই। ফলে কম আয়ের মানুষ আর্টিফিশিয়াল লেদার সামগ্রীর প্রতিই বেশ আকৃষ্ট হচ্ছে। এক অর্থে আমাদের চামড়া সামগ্রী এখন অনেকটাই বিলাসী পণ্যের মতো হয়ে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে।গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আসন্ন ঈদ উল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়। দাম নির্বারণের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশের সংশ্লিষ্ট্ সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।