ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সরকার অবগত, সময়মতো ব্যবস্থা: কাদের

সরকার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত রয়েছে সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।শনিবার সকালে ধানমন্ডিতে স্বেচ্ছাসেবকলীগের শোক দিবসের আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি।
কোটা বাতিল ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে করা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি যোগ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে এখন সরকার উৎখাতের করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন ওবায়দুল কাদের।সরকারের ভাবমূর্তি যেন নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিব্রতকর বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকতে নেতা ও মন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সময়টা এখন ভালো নয় মন্তব্য করে সরকারের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘ভাষণ না দিয়ে কাজে মন’ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, মন্ত্রীরা বিদেশ যেতে চায়। নেতারা কথা বেশি বলে, কাজ তেমন করে না। বর্তমান নেতাদের বঙ্গবন্ধুর সেই উক্তি স্মরণ করার অনুরোধ করছি।সরকারের এই সেতুমন্ত্রী বলেন, “আমি আশা করি, আমাদের সরকারি পদে আমরা যারা মন্ত্রী আছি, আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত, যারা নেতারা আছেন, ভাষণ না দিয়ে কাজের দিকে মনযোগ দিন। বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
কাদের বলেন, সময়টা ভালো নয়। আমি আমাদের নেতৃবৃন্দের কাছে, আমার সহকর্মীদের কাছে বিনীত অনুরোধ করব, যার যার সীমানা পেরিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেবেন না। সরকারকে বিব্রত করে- এমন বক্তব্য কেউ দেবেন না। দল, সরকার বিব্রত হয় এমন কোনো কথা দয়া করে কেউ বলবেন না।সহকর্মীদের ‘হোমওয়ার্ক’ করার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পলিসির ব্যাপারে নেত্রীর সঙ্গে কথা বলে কথা বলবেন, ফ্রিস্টাইল কথা বলা যাবে না। কেবল পোস্টার ব্যানার ফেস্টুনে ছবি দিয়ে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া যাবে না বলেও নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন কাদের।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে নিজের ছবি দিয়ে আত্মপ্রচার বন্ধ করতে হবে। এই ছবি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা বন্ধ করুন। বঙ্গবন্ধুকে ব্যবহার করে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করে আত্মপ্রচারে যারা নিমগ্ন তাদের রাজনীতির কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন আছে।প্লিজ এটা দেখবেন। একজন এমপি, তার বাড়ি ঢাকা থেকে অনেক দূরের একটি দ্বীপে, তিনিও ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর পাশে ছবি দিয়ে পোস্টার বিলবোর্ড করেছেন। কেন? যারা বাইরে তারা এখানে কেন ছবি দিচ্ছেন? এটা কি তাদের নির্বাচনী এলাকা? প্লিজ এইসব প্র্যাকটিস বন্ধ করুন। ইলেকশন সামনে নেতারা এই পথে আসে যায়ৃ দেখবেনৃ এইসব বন্ধ করুন।
পোস্টারের ছবি দেখিয়ে শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন পাওয়া যাবে না মন্তব্য করে কাদের বলেন, নমিনেশন পাওয়া যাবে জনগণের সেবা করে, জনগণেন মন জয় করেৃ এটা আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই। দেশেরে রাজনৈতিক চিত্র অতি দ্রুত’ বদল হবে- বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, কীভাবে বদল হবে? কেন বদল হবে? কি কারণে বদল হবে? মওদুদ সাহেবের কী ম্যাজিক আছে যে ম্যাজিক দিয়ে তিনি রাজনীতি বদল করবেন।জনগণের রায়ের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো উপায়ে ক্ষমতা বদলের খোয়াব দেখলে তা অচিরেই কর্পুরের মত হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে’ বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার কে বদলাবে? জনগণ। জনগণ কি আপনাদের চায়? নয় বছরে জনগণ আপনাদের ডাকে সাড়া দেয় নাই, তারপরও বোঝেন নাই। আজকে বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির দিন শেষ। আর সুযোগ নাই। দেশের জনগণকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানানোর সুযোগ নাই আর।বিদেশে বসে কারা কোথায় কার সঙ্গে বৈঠক করছে- সব খবরই ‘নলেজে আছে’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, ধৈর্য্য ধরে আছি। মনিটর করছি, আরও খোঁজ খবর নিচ্ছি। সময়মত আমরা ব্যবস্থা নেব।