মরণঘাতি রোগ এইডস নিয়ন্ত্রণের সাফল্যে আত্মতুষ্টিতে উল্টো আবার বাড়তে পারে এই রোগের বিস্তার। ভয়ানকরকমের সন্তুষ্টিতে যে অবহেলা করা হচ্ছে এখন এই রোগটিকে, তাতে পৃথিবীতে নতুন করে মহামারির আকার নিতে পারে এইডস বাঁ এইচআইভি। সম্প্রতি এমনটাই দাবি করেছে দ্য ল্যানসেট জার্নাল।

প্রতিবেদনে বলা হয় যে, এইডস রোগ নির্মূলে বিশ্বব্যাপী অর্থায়ন কমে যাচ্ছে। এছাড়াও ২০৩০ সালের মধ্যে এই রোগটির বিস্তার শূণ্যের কোঠায় নিয়ে আসার যে লক্ষ্যমাত্র জাতিসংঘ থেকে নেয়া হয়েছিল সে সম্পর্কেও উদাসীন বেশিরভাগ সদস্য রাষ্ট্র। রোগটির চিকিৎসা এবং নিয়ন্ত্রণে তাই বড় ধরণের পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে জার্নালটি।জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন মানুষ এইডস বা এইচআইভি’তে আক্রান্ত। প্রতি বছর এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয় অন্তত ১৮ মিলিয়ন মানুষ। প্রতি বছর নতুন আক্রান্তের সংখ্যার আনুপাতিক হার দিন দিন কমছে।

কিন্তু ল্যানসেট বলছে, নতুন আক্রান্ত হওয়া রোগীর হার যে গতিতে কমার কথা ছিল তা হচ্ছে না। আর এমনটা চলতে থাকলে, ২০২০ সাল নাগাদ প্রতি বছর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্য ইউএইড নির্ধারণ করেছে তা পূরণ হবে না।ল্যানসেট কমিশন বলছে যে, এইচআইভি রোগটি এখন সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষ, কম বয়সী বিশেষ করে কম বয়সের নারী এবং উন্নয়নশীল দেশে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক।বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই রোগ বিশ্বব্যাপী মোকাবেলা করতে প্রায় ১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ডের মতো অর্থায়ন পাওয়া যায়। তবে এই অর্থ প্রয়োজনের থেকে প্রায় ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ড কম।আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটি এর প্রেসিডেন্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লিন্ডা গেইল বেকার বলেন, “উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পরেও এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কিছু নেই। এইডস বিরোধী কার্যক্রমে আরও শক্তি আনতে হবে। ভবিষ্যতের লাখো লাখো মানুষের জন্য আমাদেরকে এই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।ল্যানসেট কমিশন এই অবস্থা মোকাবেলায়, স্বাস্থ্যখাতে পেশাজীবীদের সাথে এইচআইভি নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীদের মাঝে সমন্বয় স্থাপনের তাগিদ দেন।