সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার বলে কিছু নেই: মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে সংবিধানের দোহাই দেওয়া হচ্ছে, আবার নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলা হচ্ছে। সংবিধানের কোথায় নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান আছে? এটা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এক ধরনের প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।

শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত গণগ্রেফতার ও বিচার বিভাগের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবিতে আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, যেকোনো স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটানো অনেক কঠিন কাজ। এজন্য পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।তিনি বলেন, সরকার মনে করছে, তারাই ক্ষমতাই থাকবে। কিন্তু রাজনীতিতে কেউ ভবিষ্যতবাণী করতে পারে না। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন কর্মসূচি দেবো, সরকারের পতন হয়ে যাবে।মওদুদ আহমদ বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে সরকার সমঝোতা করতে বাধ্য হবে। তা না করলে রাজপথেই মোকাবেলা করা হবে।তিনি বলেন, নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। একজন পর্বতের চূড়ায়, আরেকজনকে মাটির নিচে চাপা দিয়ে রেখে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড’ কীভাবে হবে?জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে হয়ে গেছে বলে দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, সরকার চাইবে যাতে জাতীয় ঐক্য না হয়। কিন্তু এই ঐক্য হবে। সব রাজনৈতিক দল যারা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে চায়, আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে চায়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে চায়, আজকে একটি পয়েন্টে তারা একমত।

মওদুদ বলেন, আগামী নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ,নিরপেক্ষ ও অবাধ হয় সে জন্য দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে চায়। সুতরাং আমি বলবো এই ঐক্য হয়ে গেছে। আজকে ড কামাল হোসেন, বি চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আব্দুর রব এমনকি বাম জোটের নেতারা আজ একই কথা বলছেন। সুতরাং জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়ে গেছে।বিএনপি নেতা বলেন, ওরা ঈর্ষান্বিত হয়ে অনেক কথা বলেন। ওদের (আওয়ামীলীগ নেতাদের) সব কথার উত্তর তো আমি দেবো না। আমি নরমালি দেই না।

নালিশ করতে বিএনপি মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মওদুদ বলেন, আমাদের মহাসচিব নালিশ করতে সেখানে (জাতিসংঘে)যাননি। তিনি বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে সেখানে গেছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে কোনও কারণ ছাড়াই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা ও গুম করা হচ্ছে। সত্যিকার বর্তমান অবস্থাই তিনি সেখানে তুলে ধরেছেন। আর এটাতেই ক্ষমতাসীন সরকার আতঙ্কিত, ঈর্ষান্বিত ও বিব্রত। আমাদের মহাসচিব ইচ্ছে করে সেখানে জাননি, তাকে জাতিসংঘের মহাসচিব আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।সংলাপে বসে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য বাধ্য করা হয়নি উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, যারা ক্ষমতায় থাকেন তারা সবসময় ক্ষমতায় থাকবেন এমনটাই মনে করেন। কিন্তু রাজনীতি এমন একটি গতিশীল বিষয় এটা কেউ কোনও দিন প্রেডিক্ট করতে পারে না। যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে এমন কর্মসূচি দেওয়া হবে যাতে এই সরকারের পতন ঘটে। তারা যাতে বাধ্য হয় সংলাপে বসে আমাদের দাবিগুলো মেনে নিতে।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাইদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন,যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন,জাতীয় পার্টি (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিঙ্কন প্রমুখ বক্তব্য দেন।