আইনি প্রক্রিয়া আপাতত ভুলে গিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির রাজপথকেই একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মওদুদ আহমদ। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনি প্রক্রিয়ায় হওয়ার কথা কিছুটা ভুলে যেতে হবে। তার মুক্তির একমাত্র পথ হলো রাজপথ। এই রাজপথে এর মোকাবিলা করতে হবে, রাজপথের মাধ্যমেই তার মুক্তি আমাদেরকে অর্জন করতে হবে।বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। আগামী দিনের কর্মসূচির সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ত উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, এই কর্মসূচিতে ভোটাধিকার ফিরিয়ে পাওয়া প্রশ্ন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে পাওয়ার অধিকার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার প্রশ্ন জড়িত। এজন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে এগিয়ে যেতে হবে। এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে। এর বাইরে বাংলাদেশের মানুষের কাছে অন্য কোনও পথ নাই। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে আন্দোলনকে সফল করতে হবে।

আমরা এজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। নতুন করে কর্মসূচি দেয়া হবে। সেই কর্মসূচির সঙ্গে আমাদের আগামী দিনে রাজনীতি জড়িত, আমাদের ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়া জড়িত, গণতন্ত্রের ফিরে পাওয়া জড়িত, বিচার বিভাগের ফিরে পাওয়া জড়িত।নতুন কর্মসূচি সফল করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মওদুদ বলেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে সৃষ্টি করে আজকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এবং এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য।এছাড়া বাংলাদেশের মানুষের জন্য অন্য কোনো পথ নাই। ১৬ কোটি মানুষের মুক্তি এখন নির্ভর করছে এই জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে আন্দোলনকে সফর করা।খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনজীবীরা অনেক পরিশ্রম করেছেন উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, এমন কোনও পথ নেই, যে পথে বেগম জিয়াকে মুক্তি করার চেষ্টা আমরা করিনি। কিন্তু সরকারের প্রভাবের কাছে এবং নিম্ন আদালতের সঙ্গে এখনও আমরা জয়লাভ করতে পারি নাই। কারণ, সরকার চায় না তিনি মুক্ত হোক।

নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী (মূল সংবিধানে যেটা ছিল) নিম্ন আদালত, বিচারকদের পদোন্নতি, নিয়োগ, বদলি এবং তাদের শৃঙ্খলা সুপ্রিম কোর্টের কাছে থাকবে। কিন্তু এখন সেটা পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি ও আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে নিম্ন আদালতের ওপরে সুপ্রিম কোর্টের এখন কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই, সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবে এখন নিম্ন আদালতে কাজ চলছে।মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিজু প্রমুখ।