তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের তিন চতুর্থাংশ মানুষের জীবনযাত্রার মানে অবনমন ঘটবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।বুধবার দক্ষিণ এশিয়ার জীবনমানে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনের প্রভাব শীর্ষক বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এতথ্য তুলে ধরা হয়েছে।বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিস।এ উপলক্ষে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিনিয়াও ফান। এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফার, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ)চেয়ারম্যান ড. খলীকুজ্জমান আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার তথা বাংলাদেশের এক কোটি ৩৪ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের জীবনযাত্রার মান নেমে যাবে। গত ৬০ বছরে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। এতে কৃষি খাতসহ বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। এর প্রভাবে বাড়ছে দরিদ্রতা। এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৬.৭০ শতাংশ কমে যাবে। এমনটাই বলা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের ‘জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত দক্ষিণ এশিয়ার অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ’-এর প্রভাব শীর্ষক প্রতিবেদনে।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিনিয়াও ফান বলেন,গত ৪০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের ৬৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায়। বিশ্বব্যাংকের এখন সহায়তার অগ্রাধিকার খাত হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। কারণ, এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামো ক্ষতি হচ্ছে। এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে যাচ্ছে।বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফার বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হচ্ছে কক্সবাজার ও বান্দরবান। এ অঞ্চলে শরণার্থীরা বসবাস করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকিও আছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬০ বছরে এই অঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং এ ধারা অব্যহত থাকবে। এর ফলে কৃষি, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য খাতে প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশে প্রতি বছর এক থেকে দেড় শতাংশ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে।প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের ঝুঁকি মোকাবেলার বিষয়গুলো যদি না দেখা হয় তাহলে ২০৫০ সাল নাগাদ তাপমাত্রা ২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে বাড়তে পারে।

এর ফলে ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জীবনমানের অবনমনের পাশাপাশি বাংলাদেশ জিডিপির ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হারাবে বলে প্রতিবেদনে পূর্বাভাসে দেওয়া হযেছে।এতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ঝূকিপূর্ণ অঞ্চল হবে চট্টগ্রাম ও বরিশাল।অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, জলবায়ু মোকাবেলায় কম সুদে আরও ঋণ দরকার। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, এই সরকারের পরবর্তী ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার টার্গেট আছে। কারণ, এই সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে চায়। বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়নের সব সূচক ইতিবাচক। তবে বিশ্বব্যাংক যে সহায়তা করতে চায়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রত্যাশা হচ্ছে স্বল্পসুদে ঋণ।পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ইলেকশন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করার কিছুই ছিল না। সরকার পরিবর্তন হলেও বিদেশি এজেন্সিগুলোর সাথে সম্পর্ক পরিবর্তন হয় না। আমরা আশা করি, নির্বাচনে জয়ী হব।নির্বাচনের পর কী করবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওয়েল আই ইউল নট বি ডেড। ইলেকশনে তো কাজ করবই। প্রার্থী হচ্ছি না। আমার আসনে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে, তা তো হবেই।সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে বলে সাংবাদিকরা জানালে মুহিত প্রশ্ন করেন, আমার ভাই মোমেন (এ কে এ মোমেন), সিরাজ (মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ) এবং আর কে?অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নামও আলোচনায় আসছে- সাংবাদিকরা জানালে অর্থমন্ত্রী বলেন, এগুলো ইউজলেস নেইম- ফরাসউদ্দিন, ছহুল (সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন), এগুলো ইউজলেস নেইম।